ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নয়া কৃষক আইনের প্রতিবাদে ‘দিল্লি চলো’ নামে অভিযানের ডাক দিয়েছে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন। তবে দিল্লির দিকে এগোতেই কৃষকদের উপর কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ছুড়ে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা করেন পুলিশ-সিআরপিএফ।
দিল্লির সীমানায় বদরপুরের কাছে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কৃষকদের `দিল্লি চলো’ অভিযান ঘিরে। পুলিশের দিকে পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়েন কৃষকরা। রাস্তায় দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে আগানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে ‘স্বরাজ ইন্ডিয়া’র প্রধান যোগেন্দ্র যাদবকে।
হরিয়ানা দিল্লির সীমানায় বদরপুরে ব্রিজের উপর কৃষকদের রুখতে আগে থেকেই প্রচুর পুলিশ-মোতায়েন মোতায়েন করে কার্যত দুর্গের চেহারা বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা এগোতেই বাধা দেয় পুলিশ-প্রশাসন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। খণ্ডযুদ্ধের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। প্রায় দু’ঘণ্টা এই পরিস্থিতি চলার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
কৃষকদের বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল যোগেন্দ্র যাদবের সংগঠন স্বরাজ ইন্ডিয়া। ঘটনাস্থলে ছিলেন যোগেন্দ্র নিজেও। তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু যোগেন্দ্র প্রশ্ন তুলেছেন, বিহার নির্বাচনে কোভিড বিধিনিষেধ ছিল না। হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্য়ন্ত চৌটালা কয়েক দিন আগে মিছিল করেছেন। সেখানেও সে সব বিধিনিষেধ উধাও ছিল। তা হলে কোভিডের যুক্তি দেখিয়ে কেন দমানো হচ্ছে কৃষকদের আন্দোলন?’’
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেছেন রাহুল গাঁধী। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘পাখিদের ঘুম ভাঙার আগেই বিছানা ছেড়েছেন কৃষকরা। কালা কানুনের মেঘ গর্জন, অবিচারের বজ্রপাত, আর ঝড়বৃষ্টি থামছেই না। মোদী সরকারের নির্মমার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন দেশের কৃষকরা।’
নয়া কৃষক আইনের প্রতিবাদে বুধবার থেকে পথে নেমেছেন কৃষকরা। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লির শাসনভার আম আদমি পার্টির হাতে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে।
বুধবারই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে টুইট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির (২৬ এবং ২৭ নভেম্বর) আবেদন পেলেও তার কোনওটির অনুমতি দেওয়া হয়নি। সব আবেদন খারিজ করা হয়েছে এবং সংগঠনগুলিকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে’।
পুলিশকে সহযোগিতার আর্জি জানিয়ে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের আন্দোলনের জেরে নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে দিল্লির মেট্রো। টুইটারে মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কৃষকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সকাল থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, বদরপুরেও কার্যত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সিমেন্ট এবং লোহার অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে সিআরপিএফ। কৃষকরা যাতে রাজধানীতে ঢুকতে না পারেন, তার জন্য সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলি। হরিয়ানায় মনোহরলাল খট্টর সরকারের প্রশাসনও একাধিক বন্দোবস্ত করে রুখে দিতে চাইছে কৃষকদের। দু’দিনের জন্য পাঞ্জাব সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ দুই রাজ্যের মধ্যে বাস চলাচল। তার উপর বহু জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।
#WATCH Police use tear gas shells to disperse farmers who are gathered at Shambhu border, near Ambala (Haryana) to proceed to Delhi to stage a demonstration against the farm laws pic.twitter.com/ER0w4HPg77
— ANI (@ANI) November 26, 2020
ভারতের সংসদে বিলম্বিত বাদল অধিবেশনে তিনটি কৃষক বিল পাশ হওয়া নিয়ে তুলকালাম হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বিল পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। সেই সময় প্রায় সারা দেশেই প্রতিবাদ হয়েছিল ওই তিন আইনের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ হয়েছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানায়।
পাঞ্জাব বিধানসভায় কেন্দ্রের ওই আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবনাও পাশ হয়েছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দেয় পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যের বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সেই প্রতিবাদ আন্দোলন। পাঞ্জাব থেকে হেঁটে দিল্লি আসছেন কৃষকরা। তবে মঙ্গলবার হরিয়ানায় একাধিক বার বাধা পেয়েছেন তাঁরা। জলকামান ছোড়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের উপর। হরিয়ানার বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে পাঞ্জাবের সঙ্গে সব সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে সে সব বাধা পেরিয়ে বুধবারই দিল্লির উপকণ্ঠে এসে পৌঁছন কৃষকরা।
সূত্র: আনন্দ বাজার
-আরএম
















