অমিত শাহের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ভারতের বিক্ষোভরত কৃষকরা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন কৃষকেরা। দু’দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন কমপক্ষে ৩২টি কৃষক সংগঠন। বিক্ষোভ তুলে নিতে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফ থেকে। সেই প্রস্তাব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতেই রবিবার সকালে বৈঠকে বসে পঞ্জাবের কৃষক সংগঠনগুলি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তারা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার বলেন, ৩ ডিসেম্বরের আগেই কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সরকারের ঠিক করে দেওয়া জায়গায় কৃষকদের আন্দোলন সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর আগে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর ৩ ডিসেম্বর আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনও আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজি হয়নি সংগঠনগুলি। ফের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শর্ত আরোপের পর রবিবার বৈঠকে বসে সংগঠনগুলি।

রবিবার তাঁরা হুমকি দিলেন রাজধানীতে ঢোকার পাঁচটি প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। বিকেইউ ক্রান্তিকারী (পঞ্জাব)-এর প্রেসিডেন্ট কৃষক নেতা সুরজিৎ এস ফুল বলেন, ‘‘বুরারির মাঠের জেলখানায় যাওয়ার থেকে আমরা দিল্লিতে ঢোকা বেরোনের পাঁচটি প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে রাজধানী ঘেরাও করব। আমরা চার মাসের রেশন নিয়ে এখানে এসেছি। তাই কোনও চিন্তা নেই। আমাদের অপারেশন্স কমিটি সব বিষয়ে নজর রাখছে।’’

আর এক নেতা বলেন, ‘‘সরকার তো এই আইন কত ভাল, সে কথা অনেকবার বলেছে। আমাদের প্কেরশ্ন একটাই। কে এই আইন তৈরি করতে বলেছিল? কোন সংস্থা সরকারকে রিপোর্ট দিয়েছিল? তাদের নাম আমরা জানতে চাই।’’

কেন্দ্র বলেছে, কৃষকদের আন্দোলনকে রাজধানীর বুরারিতে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ​​ভাল্লা বলেছেন, “উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত”। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, আন্দোলনরত কৃষকরা কেন্দ্রের নির্ধারিত বুরারিতে সরে যাওয়ার পরই ওই আলোচনা হতে পারে।

অমিত শাহ স্বয়ং জানান, “কৃষকদের সব সমস্যা, দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলতে সরকার রাজি রয়েছে। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, সরকারি-নির্ধারিত জায়গায় আন্দোলন সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরের দিনই আলোচনা হবে”। কেন্দ্রের এই শর্ত আরোপের পর ক্ষুব্ধ বিক্ষোভরত কৃষকেরা। যদিও শর্ত মানা, না-মানা নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে মতবিরোধও ছিল। সেই বিরোধ কাটাতেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনগুলি।

ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) উগ্রাহান গোষ্ঠীর সভাপতি জোগিন্দর সিং উগ্রাহান কেন্দ্রীয় সরকার কাছ থেকে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরকার বলেছে, উত্তর বুরারির নিরঙ্কারি ময়দানে জমায়েত করুন কৃষকেরা। সেই শর্ত মেনে নেওয়া হলে সরকারে সঙ্গে কৃষক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের প্রাথমিক আলোচনা বিজ্ঞান ভবন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সূত্র: জি নিউজ, আনন্দবাজার

এম এস আই

পূর্ববর্তি সংবাদসাবেক বামপন্থী ছাত্রনেতাদের আবদার: ভাস্কর্য বিরোধীদের কঠোর হস্তে দমন করুন
পরবর্তি সংবাদসব খাতেই দুর্নীতি আছে: দুদক চেয়ারম্যান