আবরার হত্যা: মামলার শেষ পর্যায়ে এসে বিচারকের প্রতি অনাস্থা আসামিপক্ষের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মামলার শেষ পর্যায়ে এসে ‘নিরপেক্ষ বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায়’ বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানকে এক আবেদনের মাধ্যমে আসামিদের আইনজীবীরা জানান, এ আদালতে ‘ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায়’ তারা অন্য কোনো আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করবেন। সেই কারণে মামলার কার্যক্রম দুই সপ্তাহ মুলতবি রেখে সময় দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবীরা বলেন, সিআইডির বিশেষজ্ঞ রকিবুল হাসান এ মামলার ৩৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ইতোপূর্বে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তার জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আসামিপক্ষকে না জানিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে আবারো আজ তাকে এনে সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। মামলায় নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আমরা বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছি।

বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আইনজীবীদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪০ ধারায় এর আগের সাক্ষীকে রিকল করেছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তখন বলেন, রিকলের আবেদনের ওপর দুই পক্ষকে শুনানি সুযোগ দিতে হয়, যা এক্ষেত্রে দেয়া হয়নি। এরপর আইনজীবীরা ওই সাক্ষীকে জেরা না করেই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।

তাদের আবেদনে বলা হয়, এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ নম্বর সাক্ষী ডা. সোহেল মাহমুদ সাক্ষ্য দেয়ার সময় যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা কম্পিইটারে কম্পোজ করা ছিল। তার জবানবন্দি আগেই নথিতে জবানবন্দি হিসাকে সন্নিবেশিত হয়েছে। তাছাড়া আসামিপক্ষের বিভিন্ন সাক্ষীকে জেরার বিষয় হুবুহু রেকর্ড করা হয়নি, যা আইনসম্মত নয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানায়, মামলার শেষ পর্যায়ে এসে আসামিপক্ষ বিচার বিলম্বিত করার জন্য এসব করছেন।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের ৩৯তম সাক্ষী সিআইডির উপপরিদর্শক জাকির হাসান ইমন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেদিন তাকে জেরাও করেন।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ কুষ্টিয়া থেকে এসে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন।

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদভারতে কথিত ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইনে গ্রেফতার মুসলিম যুবক
পরবর্তি সংবাদসমাজচিত্র: ভাস্কর্যের ভাঙা কান এবং…