চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে যাত্রাবাড়ীতে বিশিষ্ট আলেমদের বৈঠকে ৫ দফা প্রস্তাবনা

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদরাসা। ছবি: সংগৃহীত।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প পন্থা অবলম্বনসহ ৫ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে যাত্রাবাড়ি মাদরাসায় অনুষ্ঠিত দেশের বিশিষ্ট আলেমদের বৈঠক থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিমার্ণ নিয়ে চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে পূর্ব ঘোষিত বৈঠক থেকে এ প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র ইসলাম টাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় আজ শনিবার সকাল ৯ টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড- বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনাগুলো হলো, প্রস্তাবনা-১: মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যে কোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়তসম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃত ব্যক্তির আত্মার কষ্ট হয়। কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে, শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত।

প্রস্তাবনা-২: আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা, বিষোদগার, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নাশের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হোক।

প্রস্তাবনা-৩: বিগত সময়ে দ্বীনি আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দান ও মামলা প্রত্যাহার করা হোক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশের আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও ধর্মপ্রাণ‍মুসলমানদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হোক। ধোলাইপাড় চত্বরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত পুনঃনির্মিত মসজিদ নামাযের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

প্রস্তাবনা-৪: সম্প্রতি শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগের অজুহাতে দ্বীনি মাহফিলে লাউড স্পিকার ব্যবহারে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ সাধারণ শব্দদূষণ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেবল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে শব্দদূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। অতএব, জনগণকে কল্যাণের পথে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সকল দ্বীনী মাহফিল যথানিয়মে অনুষ্ঠানের অবাধ সুযোগ প্রদান করা হোক।

প্রস্তাবনা-৫: যে সকল বিষয় শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম, সে সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। অথচ এক শ্রেণীর মানুষ আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের উস্কানিও দিচ্ছে। এসবের খোঁজখবর রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। উস্কানিমূলক বক্তব্য, অবমাননাকর মন্তব্য, উগ্র স্লোগান, মিছিল-মিটিং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ওলামায়ে কেরাম কঠোর ধৈর্য সংযম অবলম্বন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সরকারকে এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে ইসলাম, দ্বীন ও বাংলাদেশ বিরোধী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রোধ করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশিষ্ট আলেমদের ৫ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে আরো ৩ টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।সিদ্ধান্ত তিনটি হলো:

১. সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রাবাড়ি মাদরাসায় অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকে গৃহীত ৫ দফা প্রস্তাবাবলীর অনুমোদন।

২. বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেবের পক্ষ থেকে চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি বিশেষ চিঠি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৩. আজকের বৈঠকে উপস্থিত ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে ৫ দফা প্রস্তাবাবলীসহ ভাস্কর্যের বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধান এবং ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনার কপি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিম, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া প্রমুখ।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদচীনে কয়লা খনিতে গ্যাস লিক, ১৮ শ্রমিকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫
পরবর্তি সংবাদভারতে পাচারকালে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণের বার জব্দ