নেতার সামনেই আ.লীগের দু’গ্রুপের হাতাহাতি ও মারামারিতে আহত ১০

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাঙ্গামাটির বরকলে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে মারামারিতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার এরাবুনিয়ায় দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দলটির জেলা নেতাদের সামনেই উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক জমির উদ্দিনসহ দলের একটি টিম বরকল উপজেলায় সাংগঠনিক সফরে যায়। ওই সময় সাংগঠনিক কর্মসূচি চলাকালে এক পর্যায়ে বরকল উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এতে এরাবুনিয়া দলীয় কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের উপস্থিতিতে ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলে উভয়ে হাতাহাতির এক পর্যায়ে মারামারিতে জড়ায়। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর ৫ জনকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তারা হলেন- মো. শাহজাহান (৩৫), মো. এমাদুল(৩৭), নাছির হাওলাদার (৪৩), আবদুস সালাম (২৭) ও আনোয়ারা বেগম (৬০)। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, উভয়ের মধ্যে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা উভয়কে নিয়ে বসে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছি।

ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, দলীয় জেলা নেতাদের সফর সূচিতে আমাকে ডাকা হলে সেখানে যেতে আমাকে বাধা দেয় সালাম। এতে আমার লোকজন উত্তেজিত হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মারাত্মক কিছুই ঘটেনি।

বরকল উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বেলাল হোসেন জানান, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা গিয়ে এরাবুনিয়া বাজারের দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক কাজে মিলিত হন। সেখানে তার লোকজন নিয়ে হাজির হন চেয়ারম্যান মামুন। মামুন চেয়ারম্যান নিজেই এবং তার লালিত গুন্ডাবাহিনী দিয়ে ধারালো অস্ত্র, রড, কিরিচ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ নেতাকর্মী ও লোকজনদের এলোপাতারি মারতে থাকে। জেলা নেতারা মামুনকে বাধা দিয়েও সে নিবৃত থাকেনি।

হামলায় আহত এমাদুল বলেন, মামুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আবদুল সবুর ও বিএনপির আসাদুজ্জামান অতর্কিত আমাদেরকে মারধর করে। আমাদেরকে যখন মারছিল, তখন জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মামুন গ্রুপে জেলা নেতাদের কথাও শোনেনি।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জসিম উদ্দিন জানান, বরকলের এরাবুনিয়া বাজারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের লোকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিষয়ে এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দেয়া হয়নি।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদভারতের কৃষক আন্দোলনে সমর্থন জাতিসঙ্ঘ ও ৩৬ ব্রিটিশ এমপির
পরবর্তি সংবাদডাবরসহ ভারতের নামিদামি ১০ কোম্পানির মধুতে ভেজাল!