ভাস্কর্য ইস্যু: নতুন করে পুরনো চেহারা

খসরু খান ।।

রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ এবং সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আলেমদের প্রতিবাদী বক্তব্য ও আন্দোলনী নড়াচড়ায় গত কয়দিন ধরে ক্ষমতাসীন মহলে মারাত্মক ও ভীতিকর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রথমে বহু ‘অপকর্মের’ সাথী মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ নামের একটি বিতর্কিত সংগঠন ময়দানে নামে। এরপর সেক্যুলার ক্ষমতাসীন দলটির সহযোগী ও সমর্থক বিভিন্ন ছোট্ট ছোট্ট দলগুলি মানববন্ধন করে। সবশেষে নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে চলে নেতা-মন্ত্রী পর্যায়ে হুংকার। শাসকদলের যুব সংগঠনের দুই ‘খান্দানী’ নেতা ভয়ংকর হুমকি-ধমকি উচ্চারণ করেন। এক ‘বাচ্চা’ উপমন্ত্রী পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে আন্দোলনরত আলেমদের ‘ঘাড় মটকে দেওয়ার’ গলা উঁচু হুমকিও দেন।

২০২০ এর নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাস্কর্য ইস্যুতে শাসকদলের হঠাৎ আলেমবিদ্বেষী এই অবস্থানের সঙ্গে কেউ কেউ ২০১৩ সালের মে মাসের আগে-পরের নানারকম চিত্রের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, সেই হুমকি, সেই রক্তগন্ধী ধমক-ধামক, সেই আলেমবিদ্বেষী চিৎকার-বিদ্বেষের একটি নতুন প্রতিধ্বনি যেন শোনা যাচ্ছে ৭ বছর পর। এতে করে সেক্যুলার শাসকদলের ইসলামী ইস্যুতে সম্পূর্ণ বিপরীত ও মার-মার-কাট একটা ভীতিপ্রদ চেহারা সামনে চলে এসেছে। অভিজ্ঞজনরা বলেছেন, ২০১৩-এর পর দীর্ঘ সমঝোতা প্রক্রিয়া ও সনদ-স্বীকৃতি ও শোকরানা পর্বের মধ্য দিয়ে যে ‘কোমল’ একটা অর্জন পেয়েছে সরকার- এবারের ‘ভাস্কর্যযুদ্ধে’ তারা সেটা খুয়ে ফেলেছে। যদিও সরকার-প্রধান এখনো এই ইস্যুতে মুখ খুলেননি; কিন্তু ‘চেংড়া’ নেতাদের সঙ্গে সরকার ও দলের প্রভাবশালী অনেকেই ধমক দিয়ে কথা বলছেন।

এদিকে ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার শীর্ষ আলেমদের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে ভাস্কর্য ও মূর্তি স্থাপন হারাম-ফতোয়া ঘোষণা করা হয়েছে। আজ ৫ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকায় আলেমদের আরেকটি পরামর্শসভা হওয়ার কথা রয়েছে। হেফাজত, বেফাক, ইসলামী দলগুলো যার যার জায়গা থেকে এ ইস্যুতে নড়াচড়া শুরু করেছে। এই ‘ভাস্কর্য-বিরোধ’ এবং সরকারি মারমার-কাট পরিস্থিতি কোন্ দিকে মোড় নেবে- তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে। তবে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইসলামী ইস্যুতে ক্ষমতাসীন সেক্যুলার দলটির প্রতি ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর নতুন করে মোহমুক্তি কিংবা দূরত্ববাচক ভীতির সম্পর্ক স্থাপন হতে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

-এমএসআই