সিসিকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও বন্ধু আখ্যা দিলেন ম্যাক্রোঁ, বিক্রি করবেন অস্ত্রও!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল সিসিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো। তাকে ‘বন্ধু’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন, এমনকি তার কাছে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন তিনি।

এরপর থেকে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুুয়েল ম্যাক্রন।

মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হলে মিশরের কাছে তিনি অস্ত্র বিক্রি করবেন, এমন শর্ত তিনি দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

প্যারিসে প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদে মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে অর্থনীতি ও সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয়েই লিবিয়ার অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আলোচনা করেন মিশর ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসের হুমকি ও নিরাপত্তা নিয়ে। অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়, মিশরে সম্প্রতি পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন একটি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনের তিনজন স্টাফ। এরপর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে মিশরে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নোংরাভাবে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দৃশ্যত এমনটা মনে হয়। তিনি বলেছেন, এসব মতবিরোধে আমি প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিয়ে কোন শর্ত দেব না।

কিন্তু যে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি কমপক্ষে ৬০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে জেলে আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ আছে মানবাধিকার গ্রুপগুলোর এবং একই সঙ্গে সর্বোচ্চ শাস্তি বৃদ্ধির উদ্বেগজনক অবস্থায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন- সেই সিসিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ফরাসি কর্মকর্তা। ফরাসি একজন কূটনীতিক বলেছেন, আমি জানি না সিসির এই সফর থেকে আমরা কি অর্জন করলাম। এটাতো যথারীতি একটি বাণিজ্য।

উল্লেখ্য, স্কটহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউটের মতে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মিশেরর কাছে অস্ত্র বিক্রিতে শীর্ষে ছিল ফ্রান্স। এ সময়ে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে কায়রোর কাছে। এর মধ্যে রয়েছে মিস্ত্রাল-ক্লাস হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার থেকে দু’ডজন রাফালে যুদ্ধবিমান। তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির অনাবাসিক ফেলো তিমোথি কালদাস বলেন, প্রচলিত অস্ত্র বিক্রি সীমিত করলে তা কায়রোর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো ক্ষতি করবে না। তিনি আরো বলেন, রাফালে যুদ্ধবিমান কোনো সন্ত্রাস-বিরোধী অস্ত্র নয়। মিশরের ভিতরে যখন নিষ্পেষণ অব্যাহত রয়েছে এমনকি তা আরো কঠিন অবস্থায় রয়েছে তখন সিসির মতো হাই প্রফাইল ব্যক্তিদের সফর মাঝে মাঝেই পশ্চিমা সরকারগুলো অনুমোদন করে।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদঅফিস বা বাসাবাড়িতে সাজিয়ে রাখার জন্য ভাস্কর্য কেনাবেচার বিধান
পরবর্তি সংবাদ‘ভাস্কর্য ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়’ বলে জাতীয় মসজিদ ও ইফাকে প্রচারণার নির্দেশ