আবু রুফাইদা ।।
সাম্প্রতিক সময়ে ভাস্কর্য ও মূর্তি ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান একেবারেই সুস্পষ্ট। দেশের শীর্ষ আলেমরাও এক্ষেত্রে তাদের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, ভাস্কর্য ও মূর্তি নির্মাণ শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি নিষিদ্ধ কাজ। মুতাওয়াতির ও অকাট্য হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমানিত। ইসলামের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত ও ইজমা রয়েছে।’
দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন যে, ভাস্কর্য ও মূর্তির বিরোধিতার অর্থ কোনো ব্যক্তির বা দলের বিরোধিতা নয়। এবং ধর্মীয় দিক থেকে হিন্দু ধর্মের প্রতিমা নির্মাণ ও সেই ধর্মের রীতি অনুযায়ী মন্ডপে রেখে পূঁজা করার বিরোধিতাও এটি নয়। সেজন্য দেশের আপামর মুসলিম জনতা ও আলেমসমাজ উন্মুক্ত স্থানে ভাস্কর্য, মূর্তি ও প্রতিমা স্থাপনের বিরোধিতা করেন। হিন্দুদের মূর্তি নির্মাণ ও পূঁজার বিরোধিতা করেন না।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, নামধারি কিছু মুসলিম, কুচক্রি বুদ্ধিজীবী, হলুদ মিডিয়াকর্মী ও মূর্তিবাদি শিক্ষাবিদরা এই বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও জনতার চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা ও অবাস্তব কথা বলেই চলেছে। কিছু কিছু মন্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের ঈমানও হারাচ্ছে সন্দেহ নেই। অশুভ শক্তির ইশারায় তারা তাওহীদী জনতার শান্তিপ্রিয় আবেদন, আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পায়তারা চালাচ্ছে। এমনকি প্রতিমা, মূর্তি ভাঙার নাটক ইতিমধ্যে মঞ্চস্থ করেছে। যদিও নাটকটি সুন্দর হয়নি বলে সকলেই যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছে। এদিকে একজন বুড়ো স্বাস্থ্যকর্মী, একজন টিভি উপস্থাপিকা ও আরও কেউ কেউ এই প্রশ্ন করছে যে, তাহলে কি হেফাজত এদেশে মা দূর্গার প্রতিমাও রাখতে দিবেনা? তারা কি হিন্দুদের মূর্তিগুলোও ভেঙে ফেলবে?
এই প্রশ্নটি যদিও একটি অবান্তর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন। তারপরও বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা দরকার যে এদেশে তাওহদি জনতা, আলেম-উলামা এবং ঈমানদার কেউ কখনো হিন্দুদের প্রতিমা, মূর্তি ভাঙচুর করেনি। বরং স্বার্থ আর দলীয় কোন্দলে সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনই মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে মূর্তি, ভাস্কর্য ভেঙেছে। মন্দিরে আগুন দিয়েছে। হিন্দুদের বাড়িঘর জালিয়েছে, তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে তা প্রচারও হয়েছে।
এখানে ছোট্ট করে সেই ভাঙচুরের কয়েকটি ঘটনা তুলে দেওয়া হলো।
* ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বরিশাল গৌর নদীতে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তান্ডব চালিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি, পূজামন্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর করে। একারণে সেখানে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করেছে। সূত্র : দৈনিকবার্তা।
* ১৯ অক্টোবর ২০১৫ সালে বরিশালের উজিরপুরে পূর্ব হারতা এলাকায় দুর্গামন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় বাধা দেয়া হলে দুইজনকে মারপিট করে তারা। পরে স্থানীয় জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তিনটি মোটরসাইকেলসহ ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সূত্র : জাগো নিউজ ২৪ ডট কম।
* ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালের এনটিভি অনলাইনে সুভাষ চৌধুরীর একটি প্রতিবেদনে এসেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং রাতে দূর্গাপূজা উপলক্ষে নির্মাণাধীন প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করে। পরে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে দায়ী করে। ওই ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটককরেছে।
এছাড়া মূর্তি ভাঙার অসংখ্য সংবাদে ‘দুর্বৃত্ত’শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে মিডিয়ার বিশেষ প্রীতি আর স্বার্থের কারণে আসল অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ কথা স্পষ্ট যে সেখানে কোনো আলেম বা মাদরাসাছাত্র জড়িত ছিল না। এমনকি ২১ আগস্ট ২০২০ এর সংবাদে দেখা গিয়েছে গাজীপুরে তিন স্কুলছাত্র ও ছাত্রী কারিগর হতে প্রতিমা ভেঙেছে। সেখানেও এধরণের অদ্ভুত কাজে কোনো মাদরাসাছাত্র পাওয়া যায়নি।
অতএব বুঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন টকশো ও আলোচনায় বুদ্ধিজীবি নামের ব্যক্তিগুলো হিন্দুদের প্রতিমা ভাঙচুরের কথা বলে এবং এজাতীয় প্রশ্ন তুলে মূলত হেফাজতের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। অবাস্তব কিছু কথা ও যুক্তি দিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছে। তাদের এসব পাগলামী কবে বন্ধ হবে?
-এসএন
















