‘মোল্লা-মওলবী’দের ওপর ব্যর্থতার ঝাল ঝাড়লেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক

এইচএম আদিব।।

১৩ই ডিসেম্বর রবিবার (গতকাল) প্রথম আলোতে “বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকের তলানিতে বাংলাদেশ” শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে লিখা হয় “বিশ্বের ১৩৮ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম, চিরশত্রু পাকিস্তান ও বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকের অবস্থানে বাংলাদেশের চেয়েও অনেক উপরে”।

বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকের যেই তালিকাটা প্রকাশ করা হয়েছে তারা মূলত প্রধান ছয়টি সেক্টর থেকে একটা দেশ শিক্ষা খাতে কতটা উন্নতি করেছে তার উপর নির্ভর করে তা উল্লেখ করেছে। যেগুলো হচ্ছে:

(১) প্রাক্‌-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা।

(২) প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ।

(৩) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা।

(৪)উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন।

(৫)তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

(৬)অর্থনীতি এবং সাধারণ সক্ষমতার পরিবেশ।

এটা হলো মূল বিষয়।

প্রথম আলোর এই নিউজটিকে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানে উপরে ক্যাপশনে লিখেছেন “দেশ অশিক্ষিত মোল্লা মওলবীতে ভরে গেলে এই তো হয়!”

এবার আপনারা বলুন, উপরোক্ত ছয়টা সাবজেক্টে কতজন মোল্লা মওলবি পড়ছেন? বাংলাদেশের কয়টা ইউনিভার্সিটি ভিসি আছে যে মোল্লা মওলবি? বাংলাদেশের প্রশাসনের কোন ক্ষেত্রে কতজন আছে মোল্লা মওলবি? বাংলাদেশের স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে কতজন শিক্ষক আছে মোল্লা মওলবি?

আজকে যদি বিষয়টা এমন হতো “বৈশ্বিক ইসলামিক শিক্ষার তলানিতে বাংলাদেশ” তখন প্রশ্ন উঠতো মোল্লা মওলবিদের শিক্ষা জ্ঞান ও আবিষ্কার নিয়ে। অথচ প্রতিবছর সারা বিশ্বের প্রথম হিফজ পুরস্কারসহ অসংখ্য অবদান রয়েছে এই দেশে ইসলামিস্টদের। আমি দক্ষিন এশিয়ার উন্নত রাষ্ট্র মালয়শিয়াতে থাকি, তাদের চেয়ে হাজারগুণ বেশি ইসলামিক স্কলার আছে বাংলাদেশে।

শামসুজ্জান খানরা এই দেশের সবচেয়ে জ্ঞানপাপী। বাংলা একাডেমির মত একটা প্রতিষ্ঠানকে আজ ধ্বংস করে দিচ্ছে তারা৷ শত বছরের শুদ্ধ বানানকে অশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে চেষ্টা প্রচেষ্টার শেষ নেই, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছে না কেবল গরু গোরু ইদ ঈদ দন্দ্ব ছাড়া।

শামসুজ্জামান খাঁনের সেই পোস্টে কুয়েটের এক স্টুডেন্টের কমেন্ট দেখলাম “আমি দেশের নামকরা একটা ইঞ্জিনিয়ার ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, আমাদের সিলেবাসের বইগুলো সেই বিগত ৫০ বছরেও চ্যাঞ্জ হয়নি, ব্রিটিশ আর পশ্চিম পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া সিলেবাস দিয়েই চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে”।

শামসুজ্জামান খাঁন, আপনি নিজেদের ব্যর্থতা না ঢাকতে পেরে মোল্লা মওলবিদের এলার্জিতে ভুগছেন। এই এক বছর না, বিগত ৫০ বছরে আপনারা কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে কী কী উদ্ভাবন করতে পারলেন? মোল্লা মওলবিদের টেক্সের টাকায় নিজের পকেট পুরিয়ে এখন তাদেরকেই দোষ দিচ্ছেন? লজ্জা করেনা? দেশের শিক্ষা খাতের এই অধঃপতনের দায় দায়িত্ব নিয়ে আপনাদের মত জ্ঞানপাপীদের সুইসাইড করে মরে যাওয়া উচিত ছিল।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হলেও কিছুক্ষণ যাবত তার টাইমলাইনে পোস্টটি আর পাওয়া যায়নি।

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে

-এনটি