ভাস্কর্য নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং: ইসলাম নিয়ে মিডিয়ার এত এলার্জি কেন

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

দেশে সাংবাদিকদের অনেকে অনেক কিছুর সাথে উদাহরণ দিয়ে থাকেন এবং তাদেরকে সাদা কালো লাল হলুদ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে থাকেন। সব সময় এসব উদাহরণ যুক্তিসঙ্গত মনে না হলেও কখনো এসব  উদাহরণ ও ক্যাটাগরির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে দেশের বরেণ্য আলেমগণের সাথে বৈঠকের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করার ভিডিও দেখে অনেক ধর্মপ্রাণ নাগরিকের এমনই অনুভূতির কথা  জানা গেছে।

গতকাল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আলেমদের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। যেহেতু আমরা আলোচনা শুরু করেছি, শিগগির এর একটি ফলপ্রসূ ফলও পাবেন। তারা (আলেমরা) যে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন, সেসব নিয়ে আলোচনা চলবে। আমরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করব না। আমরা সংবিধানের বাইরে কোনো কিছুই করব না। সাংবাদিকদের পীড়াপীড়ি সত্বেও ধীরশান্তভাবে মন্ত্রীমহোদয় সব পক্ষের মন রক্ষা হয় এমন একটা মাঝামাঝি কথা বারবার বলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকরাও একের পর বিব্রতকর সব প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন।

এসব প্রশ্ন যতটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিব্রত করার জন্য তার চেয়ে বেশী করে বাংলাদেশের আলেমদেরকে টার্গেট করে। সাংবাদিকরা বারবার জানতে চান, কেন মন্ত্রী আলেমদের সাথে বসতে গেলেন। আলেমগণও যে বাংলাদেশের  নাগরিক এবং সম্মানিত ও প্রভাবশালী নাগরিক তাদের সাথেও সরকার বসতে পারেন এটা এক শ্রেণীর গণমাধ্যম কর্মীরা যেন বুঝতেই চান না।  এ বিষয়টাকে একভাগ অবজ্ঞা করে ও উপক্ষো করে তারা  একের পর এক প্রশ্নগুলো করেছেন যার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে ধর্মপ্রাণ বহু মুসলমান বেশ মর্মাহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেখক ইমামুদ্দীন মেহের বলেন, একটা জিনিস আমাদের বোঝা উচিত তা হল ক্ষমতাসীন সরকারি দল বা পশ্চিমানুরক্ত অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের জীবনাচার নিয়ে আমাদের সাংবাদিকদের একটি শ্রেণীর চরম বিরক্তি ও উন্নাসিক  ভাব রয়েছে যা আমাদের জাতির বুঝা উচিত।

“আজকে যারা ‘আলেমদের সাথে কেন বসলেন? এধরণের প্রশ্ন করে দেশের ব্যাপারে নিজেদের অতি সচেতনতার কথা জাহির করছেন তারা তখন কোথায় ছিলেন যখন প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্য নালিশ করে আসে। তখন তো তাদেরকে এমন প্রশ্ন করতে দেখা যায়নি। জানতে চান ইমামুদ্দীন মেহের।

“আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মামলার কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তার বিচার কাজ কতটুকু হয়েছে? সিনহার হত্যাকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য প্রদীপ দাশের বিচার কাজ কতটুকু হল? এসব বিষয়ে তো  এই শ্রেণীর সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে দেখা যায় না।” যোগ করেন ইমামুদ্দীন মেহের।

সাংবাদিকদের এসব ইসলাম বিদ্বেষী আচরণে ইসলাম ও মুসলমানদে স্বার্থে বিকল্প গণমাধ্যম তৈরির দাবি আরো প্রকট হয়ে ওঠে বলেন মাওলানা ইমামুদ্দীন মেহের।

ইজে

পূর্ববর্তি সংবাদনবীজীর মক্কা বিজয় ও আমাদের বিজয় দিবসের শিক্ষা
পরবর্তি সংবাদটিগ্রেতে খাদ্য ও নিরাপত্তাহীনতায় ২৩ লাখ শিশু