সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে রক্ত দেব: মুফতি ফয়জুল করিম

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম বলেছেন, ইসলাম ও এই দেশ রক্ষা করার জন্য জীবন দিব।সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনে রক্ত দিব তবু দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

আজ ১৬ ডিসেম্বর (বুধবার) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আপনারা ভেবেছেন, জেলের তকমা দেখালেই আমরা ইঁদুরের মত পালিয়ে যাব। ইদুরের বাচ্চা পালাতে পারে। শিয়ালের বাচ্চা পালাতে পারে। ভোঁদড় এর বাচ্চা পালাতে পারে। বিড়ালের বাচ্চা পালাতে পারে। কিন্তু শায়খ ফজলুল করিমের ছেলে ফয়জুল করিম পালাতে পারে না। আবু বকরের সন্তানেরা পালাতে পারে না। ওমরের সন্তানেরা পালাতে পারে না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আর যারা শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) কে মহব্বত করতেছেন, ভালোবাসতেছেন, তাদেরকে প্রশ্ন করতে চাই, তিনি যখন ১৫ আগস্ট এর পরে ৩৬ ঘন্টা লাশ হয়ে পড়েছিলেন তখন তারা কোথায় ছিল? তখন এতো ভালোবাসা কোথায় ছিল?

শুধু তাই নয় আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই। শেখ সাহেবের জানাজা কে পড়িয়েছিলেন? কে তার জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন? তার জানাজা কে দিয়েছিল? এই গোষ্ঠীর একটাও ছিলনা। তারা ঐ দিকে ব্যস্ত ছিল। তারা গদির ভাগাভাগিতে ব্যস্ত ছিল।

এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এক বিশাল পতাকা র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তির প্রাক্কালেও দেশ দু:শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত দেশ পাওয়ার আশায় লাখ লাখ মা-বোন জীবন বিলয়ে দিয়েছিল।

মাদানী আরো বলেন, মাওলানা সৈয়দ মোঃ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ.কে একটি কুচক্রি মহল স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করছে। পীর সাহেব চরমোনাই রহ. স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগি ভুমিকা পালন করেছিলেন এবং চরমোনাই মাদরাসাকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উম্মুক্ত করে দেন এবং মাদরাসায় লঙ্ঘরখানা খোলে হিন্দু-মুসলিম সকলের জন্য উম্মুক্ত করে দেন। যা বরিশাল এলাকার হিন্দু-মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা মাত্রই জানেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে এধরণের অবান্তর কথা বলে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। দেশবাসীকে এসকল কুচক্রি মহল থেকে সতর্ক এবং সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, হুমায়ুন কবির, মুফতী ফরিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ছাত্রনেতা এম. হাছিবুল ইসলাম, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ডা. শহিদুল ইসলাম যুবনেতা মুফতি মানসুর আহমদ সাকী প্রমুখ।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদ৭১-র মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তান’ যুদ্ধ দাবি করে অনেক ভারতীয়
পরবর্তি সংবাদধর্ষকদের রাসায়নিক দিয়ে খোজা করার বিধান রেখে পাকিস্তানে নতুন আইন