রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরাতে কাজ করবে তুরস্ক: তুর্কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লু বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তারা যেন নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য কাজ করবে তুরস্ক।

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লু।

বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তারা যেন ভালো থাকেন, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। তবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াটাই মূল সমাধান।

বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যে এখন এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। আমরা আগামীতে একে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই, যোগ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লু মঙ্গলবার রাতে দুইদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন মেভলুত চাভুসুগ্লু।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আগামী বছর বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গত সেপ্টেম্বরে আঙ্কারায় নির্মিত বাংলাদেশের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে তুরস্ক গিয়েছিলেন। সে সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রী মোমেন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেক আলোচনা হয়েছে। তুরস্ক বলেছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটি সামরিক সরজ্ঞাম ও তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে তুরস্ক পাশে থাকতে চায়। তুরস্ক এদেশে এলপিজি গ্যাস, হাসপাতালে বিনিয়োগ এবং আইটি প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদফ্রান্সে সবকিছুতে শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার: বললেন ম্যাক্রোঁ
পরবর্তি সংবাদঢাবিতে ছাত্রলীগের জুনিয়র নেত্রীকে বেদম পেটালেন দুই সিনিয়র নেত্রী!