‘আয়, ভাস্কর্যে হাত দে, আমরা কোরআন পড়ি না? ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই’

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ভাস্কর্যের  বিরোধিতাকারী আলেম সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমাদের কি আপনারা ইসলাম বোঝান? আমরা কোরআন পড়ি না? ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই। ডেইলি সত্তর-আশি রাকাত নফল নামায পড়ি আল্লাহর রহমতে। দুইবেলা কোরআন শরীফ পড়ি। ধর্ম সবার। ধর্মের জবাব আল্লাহর কাছে দেব, আর কারো কাছে দেব না। কেউর কাছে লাইসেন্স দিতে হইব আমার যে, আমি মুসলমান, না মুসলমান না? আপনারা লাইসেন্স দিতে চান!’

ভাস্কর্য ইস্যুতে তিনি বলেছেন, আয়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দে, সাধারণ মানুষ হিসেবে লড়াই করব। দেখি কতটুকু মায়ের দুধ খেয়েছ তোমরা। প্রয়োজনে আরেকটি খেলা খেলব।’

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর নাভানা ভূঁইয়া সিটি বালুর মাঠে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ওরা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশটাকে ব্যর্থ অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশটাকে তালেবান, আফগানিস্তানের মতো বানাতে চায়।

এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে এটা স্বাভাবিক। আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে আগামীকাল অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসবে। জনগণ যদি না চায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে না। তবে যেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে না, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে না, পুরো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা দেশের মানচিত্র বদলাতে চায়, দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট ও দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াই করতে হবে।

করোনার মধ্যেই বড় সমাবেশের ডাক শামীম ওসমানের

এদিকে করোনা মহামারি ঠেকাতে সভা সমাবেশ এড়িয়ে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও আগামী ১০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনের চেয়েও বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান।

শনিবার বিকেলের এই কর্মী সমাবেশে ঘোষণাটি দেন তিনি। আর ওই বড় সমাবেশের মহড়া হিসেবেই এ কর্মী সভার আয়োজন। এই সভায় অংশগ্রহণকারীদেরও স্বাস্থ্য বিধি মানতে দেখা যায়নি।

কর্মী সভয় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান। সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা মাঠে মঞ্চ করে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ মঞ্চের সামনে নেতাকর্মীদের জন্য রাখা চেয়ারগুলোও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেনি। হাত ধোয়া কিংবা জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থাও ছিল না। মঞ্চের প্রথম সারিতে কয়েকজন নেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীদের মাস্ক ছিল না। অনেকের মতো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের মাস্ক ছিল থুতনিতে।

এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি ও জেলা শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের মাস্ক দেখা যায়নি। কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় চলেননি।

শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) এলাকর লিংক রোড, ডিএনডি প্রজেক্ট, আদমজী সড়কসহ বহু উন্নয়ন কাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড় করাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এসময় তিনি সকলের নিকট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার জন্য দোয়া চান।

আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে জনসমাবেশের ঘোষণা দেন সাংসদ শামীম ওসমান।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদআ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, থামাতে গিয়ে কুড়ালের কোপ খেলেন ওসি!
পরবর্তি সংবাদফোন চার্জে দিয়ে গান শুনছিল ছেলেটি, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু!