ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের দখল করা জম্মু ও কাশ্মিরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (ডিডিসি) নির্বাচনে মোদিবিরোধী জোটের বিপুল বিজয়ের পর অন্তত ৭৫ জন স্থানীয় স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ভারত সরকার।
শনিবার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার গত বছর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রথম বারের মতো স্থানীয় এ নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনের পর বিরোধীদের উপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে এবং কয়েক শ’ মানুষকে গ্রেফতার করে নয়াদিল্লি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে স্থানীয় স্বাধীনতাকামী নেতা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা আছেন।
কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র এবং জোটের অন্যতম সদস্য ইমরান নবি দার বলেন, এই ধরপাকড়ের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ওমর আবদুল্লাহ বলেন, মোদিবিরোধী জোটের বিজয় প্রমাণ করেছে, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপে মোদির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি কাশ্মিরিরা।
গত ২৮ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আট পর্যায়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় এ নির্বাচনে ভারতপন্থী কিন্তু কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষের জোট পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকর ডিক্লারেশন (পিএজিডি) ২৮০ আসনের মধ্যে ১১২টি আসনে জয় পায়।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা দল (বিজেপি) ৭৪টি আসন লাভ করে। এরমধ্যে কাশ্মির উপত্যকায় দলটি মাত্র তিনটি আসন পায়।
২০১৯ সালের আগস্টে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর কাশ্মিরকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বেশিরভাগ স্বাধীনতাকামী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। এসব নেতাকর্মী এর আগে এ নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার পর নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মির নামে দু’টো আলাদা কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় ভাগ করে। একইসাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি ও চাকরির বিশেষ অধিকারও বিলুপ্ত করা হয়।
কাশ্মিরের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে যে, কাশ্মিরিরা গতবছরের কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
কাশ্মিরি স্বাধীনতাকামীরা ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে।
নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তান এই সশস্ত্র যোদ্ধাদের সহায়তা করে আসছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। এই সংঘাতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, যোদ্ধা, সরকারি বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এনটি
















