যুদ্ধ ও শীতে বিপর্যস্ত তবু পরাজিত নয় আফগান নারীরা

ওলিউর রহমান ।।

যুদ্ধ একটি জনগোষ্ঠীকে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত করে। বিপর্যস্ত মানুষ স্বভাবত নৈতিকতার কাছেও হেরে যায়। স্বাভাবিক জীবন ধারনের নিশ্চয়তা না থাকলে মানুষের ন্যায়-অন্যায়ের চেয়ে বেঁচে থাকার প্রশ্নটা বড় হয়ে দেখা দেয়।

তবে নীচের ছবিটি ভিন্ন কথা বলছে। আকাশি রঙের বোরকা পরিহিত যে নারীদের তাবুর বাইরে রোদ পোহাতে দেখা যাচ্ছে তারা কাবুলের একটি আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা। বাচ্চা যে তিনটিকে মহিলাদের জটলায় ইতস্তত বসে আছে দেখা যায় ওদের জন্ম, বড় হওয়া পাশের কাপড়ে টানানো তাবুঘরগুলোতেই।

হিন্দুকুশ পর্বতমালা আর সিস্তান মরুভূমির রুক্ষ, উষ্ণ এই দেশটির নাগরিকদের জীবন অনন্তকালের যুদ্ধে শাব্দিক অর্থেই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। আমুদরিয়ায় ভেসে গেছে নির্বিবাদী অগণিত মানুশের লাশ। পানির জন্য যে দেশটিতে নিত্য হাহাকার সেখানে প্রতিমুহূর্তে রক্তে সিঞ্চিত হয় মরু বালুকণা।

আফগান সরকারের বরাতের বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে এখনও গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন প্রাণ হারায়। একজন মানুষের জীবনের দাম সেখানে একবেলা আহারের চেয়েও কম মূল্যের। তবে অর্ধশতক ধরে চলা যুদ্ধ আফগানের বহু প্রাণ ও সম্পদের বিনাশ করলেও দেশটির নাগরিকদের ধর্মীয় মূল্যবোধে একটুও চির ধরাতে পারেনি যেন। উপরের ছবিটি সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম জীবন এবং মানস থেকে পর্দাকে যেখানে প্রায় ‘ঝেঁটিয়ে বিদায় করা’র ঘৃণ্য পায়তারা বা অন্তত কিছুটা ভদ্র হওয়ার জন্য আধুনিকতা পছন্দকারী মুসলিম নারীদের কাছে নানা ধরনের ফ্যাশনেবল বোরকার যে দুর্মূল্য চাহিদা তার বিপরিতে তাবুর বাইরে সামান্য রোদ পোহানোর জন্য আফগান নারীদের গোটা দেহ আবৃত করে বোরকা পরিধানের ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিশেষ স্বাগত জানানো প্রয়োজন।

দেশটিতে এখন তাপমাত্রা মাইনাস থ্রি ডিগ্রি সেলসিয়াস। অসহায় নাগরিকদের নেই শীত নিবারণের পর্যাপ্ত কাপড়ের ব্যবস্থা। তাই রাতে আগুন ধরিয়ে তার পাশে জটলা করে এবং দিনে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মিললে তাবু থেকে বেরিয়ে রোদ পোহিয়ে গা গরম করেন আশ্রয় শিবিরের নারী-শিশুরা।

গতকাল এমনই রোদ পোহানোর সময় ছবিটি তোলে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির কাবুল প্রতিনিধি।

যুদ্ধ যেখানে মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা ভুলিয়ে দেয় সেখানে বীরঙ্গনা আফগান নারীদের এই ধর্মীয় মূল্যবোধ, এমনকি নিজের তাবুর বাইরে রোদ পোহাতেও ধর্মীয় বিধি পালনের যে সতর্কতা তা দর্শক বা পাঠকমাত্রকেই বিশেষ আপ্লুত করবে। আল্লাহ তাআলা নির্যাতিত প্রতিটি মানুষকেই হেফাজত করুন। সকলের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিন।

 

ইজে

পূর্ববর্তি সংবাদচীনে আচমকা হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে সাত খুন, আততায়ী গ্রেফতার
পরবর্তি সংবাদওমানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ২৯ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে বিমানের ফ্লাইট