ইসলাম টাইমস ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ ৩০ ডিসেম্বর। দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে দিনটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আজ সকাল ১০টায় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে শুরুতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। পরে আবারও সমাবেশ শুরু হয়।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে শুরু করে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দুই বছর আগে ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির অভিযোগ আনে বিএনপি। এই দিনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে দলটি। সে অনুযায়ী আজ বেলা ১১টায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০টা থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।
বিএনপির এই সমাবেশকে ঘিরে প্রেস ক্লাবের আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সচিবালয়ের পশ্চিম সড়ক হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। নেতাকর্মীরা বাধা অতিক্রম করে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে সমাবেশস্থল থেকে মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। মিনিট পাঁচেক পর পরিস্থিতি শান্ত হলে সমাবেশ আবারও শুরু হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম গণমাধ্যমকে জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যারা বিশৃঙ্খল তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে বলেছি। এর বাইরে কিছুই হয়নি। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সচিবালয়ের পশ্চিম সড়ক হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। নেতাকর্মীরা বাধা অতিক্রম করে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশকে এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করতে দেখা যায়।
এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা চারদিকে ছোটাছুটি শুরু করেন।
শিল্পকলা একাডেমির সামনেও নেতাকর্মীদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই আজকের সমাবেশে বাধা: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই আজকে বিএনপির সমাবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচি তারা সহ্য করতে পারে না। এ কারণে তারা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে সবার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। বিএনপি মহাসচিব দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, বন্ধুরা আপনারা অনেক বক্তৃতা দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ থাকার। বছরের আর দু একদিন আছে। সামনের বছরে আমাদের সংকল্প হচ্ছে শুধু বিএনপি নয়, সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের সরকার প্রতিষ্ঠিত করব।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে উল্লেখ করে ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে এ সমাবেশ করা হচ্ছে বলে জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, এই সরকার গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। সবকিছু জিম্মি করে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তাদের বাধ্য করতে হবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। এই নির্বাচন কমিশন মিথ্যা কথা বলে। হাসাহাসি করে বলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, লড়াই করতে হবে। যাতে এদেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায় ‘
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা লুটপাট করছে। লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। ব্যাংক লুট করে টাকা পাচার করে ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। যুদ্ধ করেছি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য। আজ অনেক সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য সংগ্রাম করেছি। কিন্তু আজ সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
-এসএন
















