কার্যকারিতা প্রমাণ দিতে মোদিকেই আগে টিকা নিতে বলল বিরোধীরা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ইস্যুতে উত্তেজনা প্রবল। চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলাকালীন ছাড়পত্র দেয়ায় ‘কোভ্যাকসিন’-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) এই ভয় অমূলক বলে জানালেও সন্দিহান বিভিন্ন মহল। বিরোধীদের দাবি, শুধু ৩ কোটি করোনা যোদ্ধাই কেন আগে ভ্যাকসিন নেবেন? বরং এ বিষয়ে যাবতীয় ধোঁয়াশা কাটাতে এবং দেশবাসীর কাছে টিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে, সর্বাগ্রে ডোজ নিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এই দাবি তুলেছেন তৃণমূল এমপি সৌগত রায়। রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও টিকা নিতে চলেছেন।
কলকাতায় পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান হিসেবে ফিরহাদ হাকিমও ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সৌগতবাবু বলেন, ‘কোভ্যাকসিন’ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। টিকা চালুর আগে তা কাটানোর দায় প্রধানমন্ত্রীর।

একই দাবি তুলেছে বিহারের কংগ্রেসও। বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই যদি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন, তাহলে সব বিতর্কের অবসান ঘটবে। অন্যদিকে, ভারত বায়োটেকের টিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠায় বিজেপিও পাল্টা বিরোধীদের আক্রমণ করেছে। দলের মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র বলেছেন, ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করে দেশের বিজ্ঞানী ও করোনা যোদ্ধাদের মনোবলে ধাক্কা দিচ্ছে কংগ্রেস। দেশের স্বার্থে ভ্যাকসিন নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলা বন্ধ করুক সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর দল। বিহারের কংগ্রেস নেতা অজিত শর্মা অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা খুব খুশি যে, নতুন বছরে দু’টি ভ্যাকসিন এসেছে। কিন্তু একটি টিকা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তাই ভ্যাকসিনের কৃতিত্ব যখন প্রধানমন্ত্রী নিচ্ছেন, তখন তারই উচিত ধোঁয়াশা কাটাতে প্রথম ডোজ নেয়া।’

প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি করোনা যোদ্ধাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশবাসীর মনে এখন একটা‌ই প্রশ্ন, সকলের জন্য টিকাকরণ কবে চালু হবে? এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য ভ্যাকসিন বিতর্কে কোনও মন্তব্য করেননি। শুধু বলেছেন, ভারতকে আত্মনির্ভর করার ক্ষেত্রে নতুন ভ্যাকসিন একটি বৃহৎ পদক্ষেপ। আমরা বিজ্ঞানীদের কাছে কৃতজ্ঞ যে দু’টি ভ্যাকসিন ভারতে তৈরি হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে শুরু হবে বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযান।

কিন্তু, ফেজ থ্রি ট্রায়ালের ডাটা পরীক্ষা না করেই কেন তড়িঘড়ি ছাড়পত্র দেয়া হলো কোভ্যাকসিনকে? এই প্রশ্ন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জবাবে সোমবার ভারত বায়োটেকের কর্ণধার ডাঃ কৃষ্ণা এলা বলেছেন, ‘ফেজ থ্রি ট্রায়াল এখনো চলতে থাকায়, অনেকেই আমাদের ভ্যাকসিন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের হয়তো জানা নেই যে ২০১৯ সাল থেকে এ ধরনের ছাড়পত্র দেয়ার ব্যাপারে গেজেট বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। ফেজ টু ট্রায়ালের তথ্য দেখেই রেস্ট্রিকটেড ইউজের জন্য অনুমোদন দেয়া যায়। তাই এই বিতর্ক অমূলক। ডিসিজিআই কোনো অনিয়ম করেনি। সুতরাং, আমাদের ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ।’

পাশাপাশি দুই টিকা ছাড়পত্র পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চরম বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ও বাগযুদ্ধও শুরু হয়েছে। এদিন সিরামের নাম না করে ভারত বায়োটেকের কর্ণধার বলেন, ‘বিদেশের ভ্যাকসিন নিয়ে ভারতে মাত্র ১,৬০০ স্বেচ্ছাসেবকের উপর ট্রায়ালের ভিত্তিতে যারা ছাড়পত্র পেল, কই তাদের নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন তুলছে না? অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের সঙ্গে প্যারাসিটামলও দেয়া হচ্ছে। কেন দেয়া হচ্ছে? কিছু কি এড়াতে চাইছে তারা?’

এদিকে, ‘কোভিশিল্ডে’র জন্য ডোজ প্রতি ২০০ রুপিতে চুক্তি করতে আগ্রহী সিরাম ইনস্টিটিউট। কেন্দ্রকে এই প্রস্তাব দেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা। ভারত বায়োটেকের টিকার দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আইসিএমআর সূত্রে জানা গেছে, ‘কোভ্যাকসিনে’র দামও পড়বে ডোজ প্রতি কমবেশি ২০০ রুপির মতো।

সূত্র : বর্তমান

ইজে

পূর্ববর্তি সংবাদফেসবুকে কুষ্টিয়ার সেই এসপিকে হত্যার হুমকি, ডিবির মামলা
পরবর্তি সংবাদছাত্রলীগ কখনোই টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করে না বললেন জয়