চাঁদপুরে মাদরাসা শিক্ষককে লাঞ্ছনা, দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে: জমিয়ত

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তালিমুল কুরআন ওয়াল হিকমাহ (রহিমানগর) কওমী মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় কিছু লোক ভাঙ্চুর এবং হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ ওমর ফারুককে চরম লাঞ্ছিত ও মারধর করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ক্ষতিপুরণ দানেরও জোর দাবি জানান তিনি।

আজ (৫ জানুয়ারী) মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক অবিলম্বে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সেই মাদরাসার শিক্ষককে স্বসম্মানে মুক্তি দেওয়ার দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ঢাকা থেকে উলামায়ে কেরামের প্রতিনিধি দল সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে পেয়েছেন, মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক কুৎসা রটনা করে হামলা, ভাংচুর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। মাদ্রাসারটির প্রতিটি শিক্ষক ও ছাত্র স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা ভাঙচুর এবং একজন হাফেজে কুরআন শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কতিপয় সন্ত্রাসী। বর্তমানে এই নিরপরাধ কুরআনের শিক্ষক বিনা দোষে জেলে আছেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, হামলার সময় উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা অভিযোগের সত্যতা যাছাই করতে হামলাকারীদেরকে সিসিটিভি’র ভিডিও ফুটেজ দেখতে বার বার অনুরোধ করেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাতে কর্তপাত করেনি। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজে প্রমাণিত হয়েছে যে, হামলাকারীদের অভিযোগ নিরেট ষড়যন্ত্রমূলক ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বরাতে আরো জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে থেকে মাদ্রাসাটির জায়গা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে একটি মহল। তাদের যুক্ত হয়েছে দেওবন্দী মতাদর্শবিরোধী স্থানীয় একটি গোষ্ঠী। এই মহলটি ইসলামবিদ্বেষীদের চলমান আলেম-উলামা ও মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে কথিত ‘বলাৎকার’-এর মিথ্যা অভিযোগ এনে হামলা ও মাদ্রাসা দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। আর পুঁজিবাদ ও আগ্রাসনবাদি অপশক্তির তল্পিবাহক ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলার মিডিয়াগুলো ঘটনার সত্যাসত্য যাছাই না করে কওমি মাদ্রাসা ও আলেমবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে নানা রঙ দিয়ে মিথ্যাচারে শামিল হয়েছে।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষিতরা ঈমান-আক্বিদার সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরির ভূমিকা রাখারার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও যে কোন জুলুম-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে ইসলাম নির্মূলবাদী চক্র, আধিপত্যবাদি অপশক্তি এবং গণমানুষের অধিকারহরণকারীদের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তারা নানা কুৎসা, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রণের জাল বুনছে আলেম-উলামা ও কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আলেম সমাজ ও দেশবাসীকে সচেতন এবং সোচ্চার থাকতে হবে।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদগ্রিসের ফেরত পাঠানো ৮০ জন শরণার্থীকে উদ্ধার করল তুরস্ক
পরবর্তি সংবাদসীমান্তে ‘অপ্রচলিত ও অভিনব’ অস্ত্র ব্যবহার করেছে চীন: ভারত