ইসলাম টাইমস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সোমবার কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তার বিরুদ্ধে ‘বিশৃঙ্খলায় উসকানির’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দুবার অভিশংসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।
৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পর ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তাকে অপসারণের একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন আইনপ্রণেতারা।
রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও তাকে স্বেচ্ছায় সরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এদিকে সহিংস পরিস্থিতির আশঙ্কায় সাধারণ মার্কিনিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে শহরের বন্দুকের দোকানগুলোয় তারা ভিড় করছেন। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও সিএনএনের।
অভিশংসন প্রস্তাবে নির্বাচনে ট্রাম্পের ভুয়া জয় দাবি ও ৬ জানুয়ারি সহিংসতার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে তার দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়।
এতে জর্জিয়ার রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেটকে ফোন করার কথাও উল্লেখ করা হয়, যাতে ট্রাম্প রাজ্যে তার জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট ‘খুঁজে বের করতে’ তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
অভিশংসন প্রস্তাবে বলা হয়, এসব কিছুর মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপন্ন অবস্থার মধ্যে ফেলেছেন।
তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অখণ্ডতাকেও ফেলেছেন হুমকির মধ্যে, করেছেন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার হস্তান্তরে হস্তক্ষেপ। অধিকন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
কংগ্রেস ও সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে তিনি ক্ষমতা হারাবেন। এ ছাড়া রাজনীতি করার অধিকারও তিনি হারাবেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব কংগ্রেসে উপস্থাপনের পর সেটি এখন সিনেটে পাঠানো হবে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করে বলা হয়, এতে দেশের মধ্যে বিভাজন আরও বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সময় রোববার কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হুইপ জেমস ক্লাইবার্ন বলেন, অভিশংসন প্রস্তাব ১০০ দিন পর সিনেটে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আলোচনা করছেন।
সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনালকে দক্ষ আইনপ্রণেতা হিসাবে ক্লাইবার্ন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মিচ ম্যাককনাল কৌশলে নতুন প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে সব ধরনের চেষ্টা করবেন।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকেও কংগ্রেসের রাজনীতিতে দক্ষ খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করেন ক্লাইবার্ন। তিনি বলেন, পেলোসি ঠিকই জানেন, কখন কী করতে হবে।
ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি। তিনি বলেন, আমার মনে হয় দেশের জন্য এখন সবচেয়ে ভালো হবে যদি ট্রাম্প পদত্যাগ করে দ্রুত বিদায় নেন। আমি জানি তা হয়তো হবে না।
কিন্তু এটা হলেই ভালো হতো। এর আগে আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি প্রথম ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসেও ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কথা বলেন।
ট্রাম্পকে ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন আরেক রিপাবলিকান ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আরনল্ড শোয়ার্জনিগার। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের কেউ এমন ইঙ্গিত দেননি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘আমাদের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করব। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ দুটোর জন্যই হুমকি।
যত দিন যাচ্ছে, গণতন্ত্রের জন্য ট্রাম্প তত হুমকি হয়ে উঠছেন। এ কারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
আমার চাচা ভারসাম্যহীন : সমর্থকদের উসকানি দিয়ে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও বহির্বিশ্বে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সমালোচকদের তালিকায় এবার যোগ হলেন খোদ ট্রাম্পের ভাতিজি ম্যারি ট্রাম্প।
সম্প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের চাচাকে ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে তাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসাবে মন্তব্য করেন ম্যারি। তিনি বলেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন।
মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর আর কিছু করার আগেই তাকে অভিশংসন করে ক্ষমতা থেকে সরানো উচিত। আর এ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান ম্যারি। ম্যারি ট্রাম্প বলেন, বুধবারের ঘটনায় আমি ব্যথিত।
এখন কথা বলার সময় না। এখন দ্রুত কাজ করার সময়। আমার বিশ্বাস ২৫তম সংবিধান সংশোধন আনা হবে। তবে আমি মনে করি, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটি করবেন না। কারণ এ গ্রহের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ হলেন তিনি।
















