দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ১৩ প্রাণ

মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে খাদে পড়া বাস

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাত ও শুক্রবারে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাত জন মোটরসাইকেল আরোহী।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাত ও শুক্রবারে ঘটা এসব দুর্ঘটনার খবর এক সাথে।

মাদারীপুর

মাদারীপুর জেলার শিবচরে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কে রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই জন নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের অংশে শিবচরের পাঁচ্চর পাড় হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবচরের হাইওয়ে থানার ওসি সোহরাব আহমেদ মজুমদার জানান, বরিশালের উজিরপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। শিবচরের পাঁচ্চর পাড় হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় যানটি। এতে অ্যাম্বেুলেন্সে থাকা রোগী খাদিজা বেগম (৫৫) ও মেহেদী হাসান (১৭) ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ওসি জানান, আহত তিন জনকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবচরের রয়েল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকও আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, বিকল হওয়া একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক পিকআপ ভ্যানটিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা শিশুসহ দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আহত পিকআপ ভ্যানের চালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া অ্যাম্বুলেন্স

পাবনা

পাবনা-সুজানগর আঞ্চলিক সড়কের আতাইকুলার দুবলিয়ায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন– সুজানগর পৌর সদরের আব্দুল বারেকের স্ত্রী আরিফা সুলতানা (৪৫) ও একই এলাকার মনা কুন্ডুর ছেলে ঝন্টু কুন্ডু (৬০)। আহতরা হলেন– আব্দুল কাদের (৫৫), তার স্ত্রী রওশন আরা রেণু (৪৫) ও নিহত আরিফা সুলতানার স্বামী আব্দুল বারেক (৫৫)। তাদের সবার বাড়ি সুজানগরে। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দিনাজপুর

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই খালাতো ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহেশপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই খালাতো ভাই হলেন– প্রীতম গুপ্ত (২৫) ও শুভজিত গুপ্ত সুপ্রিয় (১৮)। প্রিতম গুপ্ত কুড়িগ্রাম জেলায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে চাকরি করেন। এ দুর্ঘটনায় পৃথিবী রায় (১৮) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের প্রতিবেশী প্লাবন গুপ্ত জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে শুভজিত ও পৃথিবী মোটরসাইকেল নিয়ে কুড়িগ্রাম যান। সেখান থেকে প্রিতমকে সঙ্গে নিয়ে তারা ফুলবাড়ীতে ফেরত আসেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা তিন জন মোটরসাইকেলে মধ্যপাড়া এলাকায় গিয়ে আবার ফুলবাড়ী ফেরার পথে মহেশপুরে আখবোঝাই একটি ট্রাক্টরকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে ট্রাকের চাপায় রিপ্তি বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার সকালে শহরের হামদহ ঘোষপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দুর্ঘটনাস্থলে গতিরোধক দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী।

নিহত রিপ্তি বেগম সদর উপজেলার নারিকেলবাড়ীয়া গ্রামের তাহিজুল ছিদ্দিক আলীর মেয়ে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে রিপ্তি বেগম চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে শহর থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। পথে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঘোষপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে যশোর থেকে কুষ্টিয়াগামী ভুট্টা বোঝাই একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ওই নারী রাস্তায় ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিকনিকের বাসের চাপায় মোটরসাইকেল ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়

খুলনা

খুলনায় বালিয়াখালী ব্রিজের কাছে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে পিকনিকের বাসের চাপায় একটি মোটরসাইকেল ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল চালক জাহিদ খান (২৪) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেওয়ার পর বাসটি মহাসড়কের পাশের খালে নেমে যায়।

পুলিশ ওই বাস জব্দ করেছে। এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। বাসে থাকা পিকনিক যাত্রীরা অক্ষত রয়েছেন।

ডুমুরিয়া হাইওয়ে পুলিশের এস আই রেজাউল করিম জানান, কর্নিয়া থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে জাহিদ খান গুটুদিয়ায় তার ফুপুর বাড়ি যাচ্ছিলেন। একই সময় খুলনা থেকে একটি পিকনিক টিম সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বালিয়াখালী ব্রিজের কাছে টার্নিংয়ে পৌঁছালে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেলটির ওপর উঠে যায় বাস। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় মোটরসাইকেলটি। চালকের লাশও ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। আর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খালে নেমে যায়।

মেহেরপুর

জেলা শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বাসের ধাক্কায় মারুফি খাতুন নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তার স্বামী গোলাম মোস্তফা। বৃহস্পতিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার আমদাহ গ্রামে। আহত গোলাম মোস্তফাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সদর থানা পুলিশ।

গাজীপুর

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ কনস্টেবল রুবেল হোসেন (২৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাঁশতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রুবেল কালিয়াকৈর উপজেলার সিনাবহ (খন্দকার পাড়া) এলাকার সিদ্দিক হোসেনের ছেলে।

কালিয়াকৈর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী জানান, রুবেল কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে দুপুরে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি থেকে কালিয়াকৈর যাচ্ছিলেন। পথে বাঁশতলী-কালিয়াকৈর সড়কের বাঁশতৈল এলাকার জলকুটিরের সামনে মোটরসাইকেলটিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কের উপর ছিটকে পড়েন। সে সময় অটোরিকশাটি রুবেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নরসিংদী

স্বামীর মোটরসাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন বিলকিস বেগম (৪৫)।  নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় মোটরসাইকেলটি মেরামতের পর বাড়ি ফেরার পথে বানিয়াছল এলাকার ডায়াবেটিস হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। কিন্তু, ভেলানগর পার হওয়ার আগেই কাভার্ড ভ্যানের চাপায় বিলকিস নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় তার স্বামী মো. মান্নান মিয়াও আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদীর জেলখানার মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের তারগাঁও গ্রামে।

-আরএম