ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ: আ. কাদের মির্জার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার মামলা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র সেতুমন্ত্রীর ছোটভাই আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানি মামলা হয়েছে।

মামলার প্রতিবাদে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মামলার ভয় দেখাবেন না, মওদুদ সাহেবের ১৮টা মামলা ফেইস করিনি? প্রথম মামলা ছাত্র শিবিরের অফিস ভাঙ্গার মামলা। তখনও এখানকার নেতারা জড়িত ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনরত অবস্থায় রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছি। আমাদের মামলার ভয় দেখান? জেলের ভয় দেখান? লাভ হবে না, এতে হিতে বিপরীত হবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রূপালী চত্ত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন দুপুরে নোয়াখালীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আমলি আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানি মামলার আবেদন করেন অশ্বদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ উদ্দিন।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একরাম সাহেব (নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য), জেহান সাহেব, রাজনীতি এখনও বুঝেন না, শিখেননি। টাকা পয়সা আছে তো, অনেক বানিয়েছেন লুট করে। যাদের নাম কখনো শুনিনি, এই জেহান (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান) সাহেব উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। কোথায় পেয়েছেন এত টাকা?’

এসময় তিনি মানহানী মামলার আবেদনকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সে কে? সে হলো মাদক, নারী কেলেঙ্কারী মামলার আসামি। ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছে। তারপর নারী নিয়ে ব্যবসা করার সময় বেগমগঞ্জে ধরা পড়েছে। এই কুলাঙ্গারের কথা লজ্জা হয় বলতে। অশ্বদিয়া থেকে, নোয়াখালী থেকে জানিয়েছে, এই ছেলে রাতে আমার বোনদের এইসব নেতাদের হাতে তুলে দেয়।’

মির্জা কাদের বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটা নয় শত মামলা করেন। আমি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবো। অপরাধী হলে আমার বিচার হবে। আর আপনাদের বিচার গণআদালতে হবে, সেদিন বেশি দূরে নয়। অপেক্ষা করুন।’

এদিকে মামলার আবেদনে বাদী উল্লখ করেছেন, ‘আবদুল কাদের মির্জার বক্তব্যের কারণে ভাঙ্গা উপজেলার এমপি নিক্সন চৌধুরী নোয়াখালী জেলা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয় রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সময় আযান দিলে তিনি বলেন, আযান ১০ মিনিট পরে দিলেও চলত। এতে আমি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে মনে করি, তিনি আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। তার মানহানিকর বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মানহানি হওয়ায় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় আমি বাংলাদেশ যুবলীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলাম।’

তবে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এখনও কোনও আদেশ দেননি।

-এসএন