বিনা অপরাধে ১১ বছর ধরে জেল খাটছেন অস্ট্রেলিয়ান আলেম আবদুন নাসের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ান একজন আলেমে দ্বীনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ দিয়ে ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ২০২০ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আসল সাজা শেষ হওয়ার পরেও পুনরায় কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় আদালত৷

আজ (বুধবার ১০ ফেব্রুয়ারি) আলকুদস জানায়, ২০০৯ সালে সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা একজন আলেমে দ্বীনের কারাবাসের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত৷

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান আলেম “আবদুন নাসির বিন বারিকা” গ্রেপ্তার হন।  তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়৷

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, তিনি জিহাদ, সহিংসতা ও রাষ্ট্রদ্রোহীমূলক কর্মকান্ডে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি অস্ট্রেলিয়ান সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন৷ অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের মাঠে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন৷  তার শিষ্য ও অনুসারীদের মাঝে জিহাদ ও বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলোচনা করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

বিবৃতি অনুসারে ২০২০ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও অস্ট্রেলিয়ান সরকার ‘সন্ত্রাসের অভিযোগে বিপজ্জনক দোষীদের’ জন্য বিশেষ ও বিরল এক আইনের আওতায় তাকে আরও তিন বছরের জন্য কারাগারে রাখার আবেদন জানায়৷

আজ সে আইন কার্যকর করে আদালত। একইসঙ্গে এই ধরণের কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অব্যাহত গ্রেপ্তারের পরোয়ানাও জারি করে৷

এদিকে আবদুন নাসির সন্ত্রাসের অভিযোগে নিরপরাধ মানুষকে অব্যাহত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে আপিল করতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে জানায় যে, এই সিদ্ধান্তটি সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড থেকে রাষ্ট্র ও সমাজকে রক্ষা করার জন্য নেওয়া হয়েছে৷

তবে দেশটির আদালত আবদুন নাসির ও তার শিশ্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের সাথে যোগসূত্র থাকার কোনো প্রমাণ উল্লেখ করতে পারেনি, ফলে তার ৪জন শিশ্য ২০২০ সালে নভেম্বরে জামিন পায়৷

২০০৫ সালের নভেম্বরে লন্ডনে বোমা হামলার পর থেকে সরকার কর্তৃক সম্ভাব্য সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কাজের পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে কঠোর আইন ও পদক্ষেপ নেওয়ার পর আবদুন নাসির তার বেশকিছু অনুসারী সহ গ্রেপ্তার হন৷

আল জারিদাহ ডট কম রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানায়, ২০২০ সালের শেষের দিকে তাঁর অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়৷ দেশের অভ্যন্তরে থাকা নাগরিকের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ দেশটিতে এই প্রথম৷ এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার থেকে নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হলো৷

আলকুদস আরবী এবং আলজারিদাহ ডট কম থেকে অনুবাদ: ইয়াহইয়া বিন আবু বকর

-এমএসআই