কঠিন দুর্ভিক্ষের মুখে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বাসিন্দারা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: যুদ্ধকবলিত ইয়েমেনের নারী ও শিশুরা খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট এবং  তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে৷

চলতি বছর দেশটিতে ১-৫ বছরের অর্ধেক শিশু খাদ্যাভাবের কারণে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগবে। চলমান যুদ্ধে মানবিক সহায়তার অভাবে কয়েক লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলি।

এছাড়াও দশ লাখেরও বেশি গর্ভবতী নারী ২০২১ সালে তীব্র অপুষ্টি ও খাদ্য সংকটে ভুগবে৷ আরবী আ’লাম টিভি নেট আজ (শনিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়৷

সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারা গঠিত জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকট ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে৷ জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধের শুরু থেকে নিয়ে এপর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখেরও বেশি৷ চরম আর্থিক সংকটের কারণে ইয়েমেনবাসী দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে৷

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফও) এবং জাতিসংঘের শিশুদের তহবিল (ইউনিসেফ) ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রায় তিন লক্ষ ইয়েমেনি শিশু তীব্র খাদ্যাভাব ও অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগবে৷

জাতিসংঘের চারটি সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি ইয়েমেনের চলমান সহিংসতা নিরসনে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা না হয়, তবে চলতি বছর ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও করোনার প্রাদুর্ভাবজনিত শহরগুলোতে ৫ বছরের কম বয়সী অর্ধেকের মতো শিশু খাদ্যসংকট ও অপুষ্টিতে ভুগবে। মারা যেতে পারে চার লক্ষ শিশু৷

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, গত বছর ইয়েমেনে ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হার বৃদ্ধি পেয়েছে ২২ শতাংশ৷ তবে আদন, হাদিদা, তাইজ এবং সানা’ হলো ইয়েমেনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও হুথি বিদ্রোহীদের লুটপাট ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সেখানে পৌঁছতে পারছে না৷ ফলে নারী শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছে৷

ইউনিসেফের পরিচালক ‘হেনরিটা ফোর’ ইয়েমেনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য, এবং দেশটির অধিবাসীদেরকে চলমান সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: মাশহাদুল আরব, এবং আ’লাম টিভি নেট

অনুবাদ: ইয়াহইয়া বিন আবু বকর

-এমএসআই