আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের রিট অগ্রহণযোগ্য: ৪ অ্যামিকাস কিউরি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন চারজন অ্যামিকাস কিউরি। আর দুজন রিটটি গ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে তারা এই মত দেন।

ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনগত মতামত দিয়ে সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন আদালত। আগামীকাল বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের বক্তব্য শুনবেন আদালত। ৬ অ্যামিকাস কিউরি হলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম, প্রবীর নিয়োগী, আবদুল মতিন খসরু ও ড. শাহদীন মালিক। গতকাল শুনানিতে তারা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে আব্দুল মতিন খসরু রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য মর্মে বক্তব্য রাখেন। শাহদীন মালিকও বিশেষ বিবেচনায় আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। বাকিরা রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।

ফিদা এম কামাল বলেন, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা হাইকোর্টে রিট করতে পারবেন। যে কেউ চাইলেই কোর্টে আসতে পারবে না। যিনি রিট করবেন, আদালতকে তার সন্তুষ্ট করতে হবে যে তিনি সংক্ষুব্ধ। আর রিট অব ম্যান্ডামাস করতে হলে রিটকারীকে ডিমান্ড অব জাস্টিস চেয়ে অবশ্যই নোটিশ পাঠাতে হবে। কিন্তু এই রিটের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোনো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কনটেন্ট বন্ধ, ব্লক ও অপসারণ করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। আইনটির ৮ ধারা অনুযায়ী ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে বিটিআরসি সরকারকে অবগত করে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বলার পরও বিটিআরসি পদক্ষেপ না নিলে সেক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট করতে পারে। এ জন্য আগে নোটিশ দিতে হবে। আপিল বিভাগ জনস্বার্থে রিট করার জন্য যে ১৪টি শর্ত দিয়েছেন, এর একটিতেও এই রিট আবেদন পড়ে না। ফিদা এম কামাল আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। লাখ লাখ লোক ভিডিওটি ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছে। সরকার এটা বন্ধ করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সিনিয়র আইনজীবী কামাল উল আলম বলেন, ঘণ্টাব্যাপী একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার হলো। যার নামে প্রতিবেদন, সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে একটি লাইনও দেখাতে পারল না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র দেখাতে পারল না। এটা তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করা মানে রাষ্ট্রকেই বিতর্কিত করা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রিটকারী সংক্ষুব্ধ নন। ওই প্রতিবেদনে আবেদনকারী ও জনগণের কোনো মৌলিক অধিকার কি লঙ্ঘিত হয়েছে? শর্তপূরণ না হওয়ায় এই রিট গ্রহণযোগ্য নয়।

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরার সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি রিট করা হয়। রিটে ওই টিভি চ্যানেলে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ও লিঙ্ক ইউটিউবসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ ও অনলাইন মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এনামুল কবির ইমন রিটটি করেন।

এর পর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি রিটের গ্রহণযোগ্যতাসহ পাঁচটি বিষয়ে মত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছয়জন আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীর সংক্ষুব্ধ হওয়ার দিক, রিটের প্রার্থনা অনুসারে এই আদালত থেকে কোনো আদেশ দেওয়া হলে বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেলের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যাবে কিনা, কোনো আইনি নোটিশ ছাড়া রিট (ম্যান্ডামাস) চলে কিনা, এই আদালত থেকে আল জাজিরার তথ্যচিত্রটি সব মাধ্যম থেকে বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা, ১ ফেব্রুয়ারি তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর এত দেরিতে রিট করার প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা- এসব বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরিদের মত দিতে বলা হয়।

আল জাজিরায় গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। এটিকে ‘মিথ্যা ও অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরও (আইএসপিআর) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশও।

-ইজে

পূর্ববর্তি সংবাদ২৪ ঘন্টা পর ধরে নিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ
পরবর্তি সংবাদচট্টগ্রাম ইপিজেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১