ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞে দরিদ্রতার শিকার গাজাবাসীর সহায়তায় স্যুপ কিচেন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার, ৪১ বছর বয়সী সামিরা আবু আমরা বিশাল এক পাত্র আগুনে চড়ান। এরপর পাত্রে থাকা স্যুপ তৈরির জন্য অপেক্ষা করেন তিনি।

গাজা শহরের জাইতুন মহল্লায় বাস করা ফিলিস্তিনি এই নারী সপ্তাহে দুই বার দুই শ’ লিটার করে স্যুপ তৈরি করে স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করেন। ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধ এবং বিভিন্ন সময় ইসরাইলি বাহিনীর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ ও বোমা হামলায় ধ্বংসযজ্ঞের ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কটে গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্রতার শিকারে পরিণত হয়েছে।

কুয়েতি এক নারী এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছেন। সামিরা বলেন, ওই নারী তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘উম্মে মুহাম্মদ, আপনার কেমন লাগবে যদি কোনো সদকার কাজ করেন কোনো বিনিময় ছাড়া?’

সামিরা জানান, মানুষের উপকারে কিছু করার জন্য সেই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছিলেন।

মিডল ইস্ট মনিটরকে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে, মানুষ এই চিন্তা পছন্দ করেছে এবং তারা তা গ্রহণও করে নিয়েছে। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে এবং আরো করার জন্য এগিয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন পার করছে এবং আমাদের এলাকায় দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি। তারা এই ধারণা কখনোই মেনে নিত না যদি তাদের অবস্থা করুণ না হতো।… তাদের করুণ অবস্থায় এটি তাদের সাহায্য করেছে…তারা বলছেন, এটি তাদের বাঁচতে সহায়তা করেছে।’

প্রকল্পটি চালুর সময় সামিরা ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করতেন। বর্তমানে তিনি ৪০টিরও বেশি পরিবারের জন্য খাবার পরিবেশন করছেন। খাবার প্রস্তুতের জন্য তার খরচ হয় ৪০ জর্দানি দিনার (বাংলাদেশী চার হাজার সাত শ’ ৮০ টাকা)।

সামিরা আশঙ্কা করছেন, দিন দিন দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ায় তার কাছে খাবারের জন্য আসা লোকের সংখ্যা বাড়বে।

তিনি আশা করেন, বিশেষ একটি লঙ্গরখানা ও দারিদ্রপীড়িত লোকদের সহযোগিতার জন্য একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদব্লগার অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় মেজর জিয়াসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১ জনের যাবজ্জীবন
পরবর্তি সংবাদস্যালাইন-পানি দিয়ে বানানো নকল টিকা লাখ লাখ ডলারে বিক্রি, চীনে গ্রেপ্তার ১