রামমন্দিরে যারা চাঁদা দেয়নি, তাদের তালিকা তৈরি করছে আরএসএস

আরএসএসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, এই অভিযোগের জবাব দেওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ওপর যে রামমন্দির বানানো হচ্ছে তার জন্য সারা দেশজুড়ে অর্থ সংগ্রহ অভিযান চালাচ্ছে একটি ট্রাস্ট। তবে সেই চাঁদা তোলার পদ্ধতিকে ঘিরে নানা রাজ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। সে তালিকায় সবশেষ সংযোজন কর্নাটক।

অযোধ্যায় রাজসিক রামমন্দির নির্মাণের জন্য সারা ভারত থেকে এরইমধ্যে এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি সংগৃহীত হয়েছে। কদিন আগেই এ ঘোষণা দিয়েছে সরকারের গঠিত ট্রাস্ট।

মন্দির নির্মাণের জন্য বহু মানুষ ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ ট্রান্সফার করছেন। আবার বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মন্দিরের জন্য চাঁদা তুলছে।

এই পটভূমিতেই মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন কর্নাটকের সিনিয়র রাজনীতিবিদ এইচ ডি কুমারাস্বামী। একের পর এক টুইট করে তিনি দাবি করেছেন কোন কোন বাড়ি থেকে মন্দিরের জন্য চাঁদা দেওয়া হচ্ছে আর কারা দিচ্ছে না আরএসএস সেগুলো চিনে রাখছে। এইচ ডি কুমারাস্বামী ভাষায়, ‘ঠিক যেভাবে নাৎসি জামানায় হিটলার করেছিলেন, তার শাসনে মৃত্যু হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের।’

ঘটনাচক্রে দিন কয়েক আগে মহারাষ্ট্রের শাসক দল শিবসেনাও মন্দিরের জন্য এভাবে চাঁদা তোলার তীব্র বিরোধিতা করেছিল।

কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কুমারাস্বামীর অভিযোগ অবশ্য আরও গুরুতর। তিনি দাবি করছেন, কারা রামমন্দিরের জন্য চাঁদা দিচ্ছে না তাদের তালিকা তৈরি করে রাখছে আরএসএস।

জার্মানিতে নাৎসি পার্টি আর ভারতে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস যে একই সময়ে এবং একই ধরনের আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছিল, ঐতিহাসিকদের উদ্ধৃত করে সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে কর্নাটকে আরএসএসের মুখপাত্র ই এস প্রদীপকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এই অভিযোগ ‘এতোটাই ভিত্তিহীন’ যে তারা এর কোনও জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করছেন না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা- ইজে