ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তার এবং ফেনী ও নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতাদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ডাকা হরতাল চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়। সকাল থেকে জরুরি পরিবহন ছাড়া সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খোলেনি দোকানপাট। বসুরহাট-দাগনভূঞা, বসুরহাট-কবিরহাট ও চরকাটরা আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করেছেন কাদের মির্জার সমর্থকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, আবদুল কাদের মির্জা এক থেকে দেড় শ সমর্থক নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করছেন। অনেক জায়গায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পুলিশ সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে ফেলেছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গতকাল সকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে আবদুল কাদের মির্জা হরতালের ডাক দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাতভর কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান করেন।
আগামী শুক্রবারের মধ্যে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রত্যাহার এবং উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তার করা না হলে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজ টেকেরবাজার এলাকায় তার অনুসারীদের নিয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। সবুজকে আটকের পরে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আবদুল কাদের মির্জা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন।
নেতাকর্মীরা সে সময় থানার দুপাশে বাস-ট্রাক থামিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
এ দিকে আবদুল কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তার ও মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল বিকেলে জেলা শহরের মাইজদীর বড় মসজিদ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আজিজুল হক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার দলের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা ধর্মীয় নেতাদের গায়ে হাত তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও অপমান করেছেন। কিন্তু, ওবায়দুল কাদের সাহেব এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করুন। না হলে আমরা ধরে নেব আপনিও মির্জা কাদেরের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। মির্জা কাদেরকে যদি গ্রেপ্তার করে বিচার করা না হয়, তাহলে দেশের ধর্মীয় নেতারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের বড় রাজাপুর গ্রামের ছিদ্দিকিয়া নুরানী মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির সহসভাপতি আবদুল কাদের মির্জা। ওই ওয়াজ মাহফিলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনে আবদুল কাদের মির্জা ওয়াজ মাহফিলের বক্তা মো. ইউনুছ ও ইমরান হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। থানা পুলিশ আটককৃতদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনে মুক্তি দেন। এই ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা আবদুল মির্জা কাদেরের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
-এনটি
















