জুমার দিনের বিশেষ আমলসমূহ

ওমায়ের আহসান ।। 

জুমার দিন সপ্তাহের মহিমান্বিত দিন। আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও সুন্নাহয় জুমার দিনের  অপরিসীম  গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। এ দিনের নামে কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সুরা (সুরা জুমা) নাজিল করা হয়েছে। যে সুরার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।’- সুরা জুমা, আয়াত ১০

জুমার দিনে এমন একাধিক আমল রয়েছে, যা পালন করা সহজ, কিন্তু সওয়াব অনেক বেশি। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয়নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

من غسل يوم الجمعة واغتسل،   ثم بكر وابتكر، ومشى ولم يركب، ودنا من الإمام واستمع، ولم يلغ كان له بكل خطوة عمل سنة أجر صيامها وقيامها

অর্থ: যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, আগে আগে মসজিদে গেল, বাহনে না চড়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো অনর্থক কথা বা কাজ করল না, আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোযা ও  সওয়াব দান করবেন। (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৫,৩৪৬; তিরমিযী, ৪৯৬)

এখানে জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল উল্লেখ করা হলো:

১. জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে সুরা সাজদা ও সুরা দাহর/ইনসান তেলাওয়াত করা।

২. জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করা।

৩. নিজের সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরা।

৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা, যদি থাকে।

৫. জুমার নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া। সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে  যাওয়া।

৬. সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা।

৭. মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আগে কমপক্ষে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করা।

৮. জুমার নামাজে ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা।

৯. মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা এবং খুতবা চলাকালীন চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। কেউ মসজিদে কথা বললে ‘চুপ করুন‘ এতোটুকুও না বলা।

১০. দুই খুতবার মাঝের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা এবং জুমার দিনের অন্য সময়ও দোয়া করা। কারণ এদিনে দোয়া কবুল হয়।

১১: জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

-এসএন