ড. আনওয়ারুল করীম রহ. : একটা পবিত্র নূরানী চেহারার আর দেখা মিলবে না

মুহাম্মদ আদম আলী ।।

সচরাচর কেউ ডাবল বেয়াই হতে চায় না। এক ধাক্কাই সামলাতে মানুষ হিমশিম খায়। সেখানে একই পরিবারে দুই সম্বন্ধ―কঠিন কাজ। অবশ্য বুযুর্গদের বেলায় কাজটি কঠিন নয়। ড. আনওয়ার করীম সাহেব প্রফেসর হযরতের ডাবল বিয়াই হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন। তবে এটি ছাড়াও তার আরও বড় বড় পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের দাওয়াত ও তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বি ইঞ্জিনিয়ার হাজী আবদুল মুকীত সাহেবের জামাতা; ছিলেন বুয়েটের একজন সাবেক প্রফেসর, সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। প্রচণ্ড জ্বর-সর্দির কারণে আমি তার জানাযায় যেতে পারিনি। শেষ করে দেখা হয়েছিল, মনে নেই। গত কয়েকবছর ধরেই দেখা হচ্ছিল না। একটা পবিত্র নূরানী চেহারার আর দেখা মিলবে না।

তিনি বড় মানুষ ছিলেন। প্রফেসর হযরতের অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। এই উসিলায় তিনি এই গরিবের বাড়িতে অনেকবারই মেহমান হয়েছিলেন। নেভীতে থাকাকালীন চট্টগ্রামে মেহমান হয়েছেন। কাপ্তাইতেও গিয়েছেন। তাকে ঘিরে অনেক স্মৃতিই আছে।

আশপাশ শূন্য হয়ে যাচ্ছে। মানুষ চিরকালের পথ ধরছে। আমরাও একই পথের পথিক। চলে যাব, যেতেই হবে। তবু কি যে মায়া লাগে! ভালোবাসার স্মৃতি বেড়েই চলছে!! সঙ্গে বাড়ছে হারানোর স্মৃতিও। কেমন হবে যখন নিজেই স্মৃতি হয়ে উঠব!

আল্লাহ সব মুমিনদের ক্ষমা করে দাও। জান্নাত দাও। সেখানে আবার দেখা হোক প্রিয়জনদের সঙ্গে!

লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া 

-ইজে