ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, কওমী মাদরাসা সমূহ মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা সংরক্ষণের মজবুত দূর্গ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কওমী মাদরাসা দেশ ও জাতীর বিশাল খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আক্বিদা রক্ষা ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সংরক্ষণে কওমী মাদরাসা ও ওলামায়ে হক্কানির অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে ও থাকবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর আল-জমিআতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজত আমীর বলেন, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আলেম সম্প্রদায়। ওলামায়ে কেরাম নবী-রাসুলের উত্তরসূরি হিসেবে দীপ্তকণ্ঠে জাতির সামনে হক কথা বলবেন। হক ও ন্যায়ের কথা বলতে ওলামায়ে কেরাম কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করেন না।
মাদ্রাসার মজলিসে ইদারীর প্রধান মুফতি আজম আল্লামা আব্দুচ্ছালাম চাটগামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
এর আগে ফজরের নামাজের পর মাওলানা আব্দুচ্ছালাম চাটগামীর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
মাওলানা বাবুনগরী বলেন, মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য রাহমাতুল লিল আলামিন বা শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর ইলমে ওহীর মাধ্যমে আইয়্যামে জাহিলিয়্যাত বা বর্বরতার যুগের নিকৃষ্ট মানুষগুলোকে সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মাগুলোকে নির্মল ও পরিশুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্বরতার যুগের সেই মানুষগুলোকে সরল সঠিক পথ সীরাতে মুস্তাকিমের উপর ফিরিয়ে আনার জন্য মক্কায় দারে আরকম এবং মদীনায় আসহাবে সুফফা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান প্রচলিত কওমী মাদরাসা সমূহ সেই দারে আরকম আর সুফফা মাদরাসার শাখা।
মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিমুদ্দীন, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, শিক্ষক নূরুল আবছার সাহেব এবং আনোয়ার শাহ আযহারীর যৌথ সঞ্চালনায় মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে- মাওলানা আল্লামা শেখ আহমদ, মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা নোমান ফয়জী, মুফতী জসীম উদ্দীন, মুফতী কিফায়াতুল্লাহ, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী, মাওলানা লোকমান, মাওলানা খোবাইব, মুফতি হাবীবুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মাওলানা সাআদাত, মাওলানা নূরুল আবছার, মাওলানা আজীজুল হক আল-মাদানী, মাওলানা খালেদ ও সাইফুল্লাহ আয়ূবীসহ অনেক দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম আলোচনা পেশ করেন।
এশার নামাজের পর গত বছর দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর সম্মাননা পাগড়ি প্রদানের মাধ্যমে মাহফিলের পরিসমাপ্তি হয়। অন্যদিকে মাহফিল ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় গত বৃহস্পতিবার থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতায় পরিপূর্ণ।
-এসএন
















