ইসলাম টাইমস ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব চীনের তিয়ানজিন সামুদ্রিক বন্দরের বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এক ধরণের দূষিত আইসক্রিম কিনেছিলো। যা স্বল্প তাপমাত্রায় রাখার কারণে পর্যাপ্তভাবে ঠান্ডা হয়নি, ফলে এর চর্বিযুক্ত উপাদানটি কোরোনা ভাইরাসের উর্বর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলে জানায় এপি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর অনুসারে, তিয়ানঝিন মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় আপাতত সেই সব ক্রেতাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাঁরা এই আইসক্রিম খেয়েছিলেন। তিয়ানঝিনের একটি স্থানীয় সংস্থা এই আইসক্রিম তৈরি করেছিল।
ব্রিটিশ “স্কাই নিউজ”-এর বরাতে জানা গেছে, চীনের ‘Tianjin Daqiaodao Food Company’ তিয়ানজিন দাকিয়াওদাও ফুড কোম্পানি কর্তৃক উত্পাদিত আইসক্রিমের ৩টি নমুনায় করোনার ভাইরাস পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে ১৮১২টি বাক্স আইস্ক্রিম বাজারজাত করে ফেলেছিলো, তার মধ্যে থেকে ৬৫ টি প্যাকেটের মতো বিক্রি ও হয়ে গিয়েছিলো৷
পরবর্ততিতে কম্পানিটি উত্পাদিত আইসক্রিমের ৪,৮৩৬ টির ও বেশি বাক্স ফিরিয়ে নেয়৷ প্রতি বাক্সে ছয়টি করে আইসক্রিম ছিলো।
ওই আইসক্রিমের একই ব্যাচের ২৯ হাজার কার্টন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ।
পত্রিকাটির বিবৃতি অনুসারে ‘তিয়ানজিন’ শহরের বাইরের প্রাদেশিক বাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয়, এরপর তারাও পরীক্ষা করে আইসক্রিম দূষিত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে।
‘China Daily’ চায়না ডেইলি সংবাদপত্র জানায়, আইসক্রিম পরীক্ষা করে করোনার বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার পর বর্তমানে ২৯০০ হাজার বাক্স বাজেয়াপ্ত করে আলাদা করা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত আইসক্রিমের মাধ্যমে কারও দেহে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে এমন প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে চীনের প্রাথমিক তদন্ত হিসাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোম্পানিটি আইসক্রিম তৈরিতে ‘নিউজিল্যান্ডের’ গুঁড়ো দুধ এবং ‘ইউক্রেনের’ গম ও গুঁড়ো দুধ আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করেছিলো। হতে পারে বিদেশী এই পণ্যগুলি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত ছিলো৷
যুক্তরাজ্যের ভাইরাস গবেষক ‘স্টিফেন গ্রিফিন’ বলেন, এই আসক্রিম হতে পারে এই প্রথম বারই সংক্রমণ হয়েছে৷ এটা কম্পানিটিরল সকল উতপাদিত খাদ্যে বিস্তৃত হওয়ার নির্দেশ করে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসক্রিমে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এতে চিন্তার কোনো কারণ নেই। হয়তো কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে এই ভাইরাস আইসক্রিমে ঢুকে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, আইসক্রিমের আগেও বিভিন্ন খাবারে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা একাধিক প্যাকেটজাত দ্রব্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন।
এমএসআই
















