কেমন চলছে মালয়েশিয়ার মাদরাসাশিক্ষা?

মুকিম আহমাদ ।। মালয়েশিয়া থেকে 

মাদরাসা বলতে আমরা যা বুঝি তা হল দ্বীনিশিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা। ৬১.৩℅ ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়াতে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি দ্বীনিশিক্ষার রয়েছে শত শত প্রতিষ্ঠান। যা মাআহাদ,  মাদরাসা  বা তাহফিজ হিসেবে পরিচিত।

একটি বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ছয় বছরে নয় শতেরও অধিক নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত তাহফজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও মুসলিম পাবলিক স্কুলগুলোতে ‘দীনিয়্যাহ’ নামে আলাদা পাঠ্যবিষয় রয়েছে, যা মাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক। তবু সাধারণ মালায়ী মুসলিমগণ তাদের সন্তানদের মাদরাসা বা মাআহাদগুলোতে পাঠিয়ে থাকেন।

মাদরাসা ওয়াদি ফাহাম, সেলাঙ্গর, মালয়েশিয়া

এই মাদরাসাগুলো প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। সেকোলাহ আগামা কেবাংসান বা পাবলিক ইসলামি  স্কুল, প্রাইভেট তাহফিজ মাআহাদ এবং দেওবন্দি নেসাবের (ফিকহের কিতাব ব্যতীত) মাদরাসা , মালায়ী মুসলিমগণ সাধারণত শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা মাদরাসাও রয়েছে। এমনকি বালক-বালিকা সহশিক্ষার মাদরাসাও রয়েছে মালয়েশিয়ায়।
সরকারি মাদরাসাগুলোতে দীনিয়্যাতের পাশাপাশি সাধারণ বিষয়গুলো এবং কুরআনের বিশেষ বিশেষ সুরাগুলো হিফজ করানো হয়। আর দেওবন্দি নেসাবের মাদরাসাগুলো সাত বা আট বছরে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত।

তাছাড়া প্রায় সবগুলো মাআহাদ প্রদেশভিত্তিক বোর্ডেগুলোর কারিকুলাম অনুসরণ করে থাকে ,যাদের বেশিরভাগ মিশরের জামেয়া আল আজহারের কারিকুলামের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিছু মাদরাসা ইয়েমেনের দারুল মুস্তফার কারিকুলামেও পরিচালিত হয়। শুধু হিফজুল কুরআনেরও অনেক মাদরাসা আছে।

কেলানতান, কেডাহ, তেরেঙ্গানু ও সেলাঙ্গর প্রদেশে মাদরাসার হার তুলনামূলক বেশি। এসব মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর হল উচ্চ মাধ্যমিক তথা  STAM (Sijil Tingi Agama)। STAM পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ জামেয়া আল আজহার, মিশর এবং আরবের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করে থাকেন। ফলে মাদরাসা-শিক্ষার্থীরা একটা পর্যায়ে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যেতে পারছে। এ কারণে দেশটির  অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে মাদরাসাপড়ুয়া ব্যক্তিদের দেখা যায়।

মাদরাসা মিফতাহুল উলূম শ্রী পেতালিঙ, কুয়ালালামপুর

সাধারণত দেওবন্দি নেসাবের মাদরাসাগুলোত তুলনামূলক ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাধিক্য লক্ষ্য করা যায়। তাবলিগের মারকাজ শ্রীপেতালিং মাদরাসা মিফতাহুল উলূম তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি শিক্ষার্থীও রয়েছে এ মাদরাসায়। যাদের বেশিরভাগই কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চায়না এবং ফিলিপাইনের।

স্থানীয় হাফেজ ছাত্রগণ ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকেন। প্রাদেশিকভাবে হিফজ-সমাবর্তনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাফেজগণ সনদ লাভ করেন ।
এইসব মাদরাসাগুলোতে স্থানীয় শিক্ষকদের পাশাপাশি পাকিস্তান,ভারত,মিশর, ইয়েমেন এবং  বাংলাদেশের আলেমগণ শিক্ষকতা করে থাকেন। তবে তাহফিজ মাদরাসাগুলোতে বাংলাদেশি হাফেজদের মূল্যায়ন বেশি। ছাত্র গড়া এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশি শিক্ষকগণ ইতোমধ্যে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

হিফজ এবং দীনিয়্যাত-উভয় শাখায় বাংলাদেশের আলেমগণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। বিভিন্ন মাদরাসার পরিচালক বা সহকারী পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন অনেকে। বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা সনদ দিয়েই এখানকার মাআহাদ বা মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের হাফেজ এবং আলেমগণ।

পূর্ববর্তি সংবাদজোড়া খুনের মামলায় কিশোরগঞ্জে ৪ জনের ফাঁসি, ২১ জনের যাবজ্জীবন
পরবর্তি সংবাদ২০ দলীয় জোট ছাড়লো ন্যাপ-এনডিপি