ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, (এনসিটিবি) এর বইয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে শেখানো শুরু হয়েছে আদমশুমারি, নারী-পুরুষের শতকরা অনুপাত, জনসংখ্যার ঘনত্ব। এ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
বাংলা মাধ্যমের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তান পড়ুয়া একাধিক অভিভাবক ঢাকার একটি গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তৃতীয় শ্রেণি থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল শেখানো শুরু হয়েছে। এ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আদমশুমারি, নারী-পুরুষের শতকরা অনুপাত, জনসংখ্যার ঘনত্ব মুখস্থ করতে হচ্ছে, যা সন্তানদের মেধার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার বলেন,‘আমরা জনসংখ্যা নিয়ে কাজ করতে গিয়েই জনমিতি, জন্মহার, মৃত্যুহারসহ বিভিন্ন বিষয় বুঝতে হিমশিম খাই, আর বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের এই সব তত্ত্ব পড়ানো হচ্ছে শিশুদের। বিষয়গুলো তাদের মেধা ও বয়সের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়নি।’
৯ থেকে ১০ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জনসংখ্যা অধ্যায় থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় এবং স্বাস্থ্যগত কারণগুলোর তালিকা তৈরি করতে হবে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করতে টেলিভিশনে একটি নতুন ধরনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করতে হবে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি কারা, কী কী দৃশ্য থাকতে পারে এবং কী বার্তা দিতে চায় তাও বলতে হবে।
একই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গ্রাফ, ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা কত ছিল ইত্যাদি তথ্যও জানতে হবে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমাজের ওপর অধিক জনসংখ্যার প্রভাব পড়তে পড়তেই একই ক্লাসে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার কথা শিখবে।
‘এসো বলি’ শিরোনামে শিক্ষার্থীদের কাগজকলের জন্য কী ধরনের মূলধন, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানবসম্পদ দরকার তা বর্ণনা করতে বলা হয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের আমরা কীভাবে আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধিতে মানবসম্পদকে ব্যবহার করতে পারি?-এ প্রশ্নের অল্প কথায় উত্তর দিতে হবে।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে রাস্তাঘাটে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। একজন পরিকল্পনাকারী হিসেবে রেলপথ, বাসযাত্রী, গাড়ি চালক এবং পথচারীর মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীর পরিকল্পনা কী তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
শিশু বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর গণমাধ্যমকে বলেছেন, পাঠ্য বইয়ে জনসংখ্যা বিষয়ক অধ্যায়গুলোতে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এ সকল তত্ত্বকথা শিশুর বয়সের সঙ্গে মোটেই সামঞ্জস্যশীল নয়।
















