ইসলাম টাইমস ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের) ছাত্র সাইফুর রহমান প্রতীক গত রোববার রাতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।প্রতীকের পরিবারের দাবি, মাস্টার্সে থিসিস সুপারভাইজর না পাওয়া ও বিভিন্ন কোর্সে কম নম্বর পাওয়ার হতাশায় আত্মহত্যা করেন তিনি।
অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া প্রতীক থিসিস পাননি মাস্টার্সে। বিভাগের কোনো শিক্ষকই তার তত্ত্বাবধায়ক হতে রাজি হননি।তবে থিসিস সুপারভাইজর না পাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের শিক্ষকরা।
অনার্সে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও কেন প্রতীককে থিসিস সুপারভাইজর দেওয়া হলো না এমন প্রশ্নে জিইবি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শামসুল হক প্রধান বলেন, ‘সুপারভাইজার না দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। আমি কিছুদিন হলো বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে এসেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’
তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া ফলো করে থাকি। এক সেশনে একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর থিসিস নিতে পারেন। যারা নিয়েছেন তাদের পর সে আর সুপারভাইজার খুঁজে পায়নি।’ তবে অনার্সে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের কেন নেওয়া হলো এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান।
এদিকে থিসিস সুপারভাইজর না পাওয়ায় প্রতীক ও তার পরিবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে শাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই তার ফ্যামিলি থেকে প্রতীকের সুপারভাইজার না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। আমি তখন তার ডিপার্টমেন্টকে বিষয়টি অবগত করি। এরপর আমার সাথে প্রতীক বা প্রতীকের পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেনি এবং পরবর্তীতে ফলাফল কি হয়েছিল এই ব্যাপারেও আমাকে অবগত করা হয়নি।’
এদিকে প্রতীকের আত্মহত্যার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এগ্রিকালচার অ্যান্ড মিনারেল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনকে প্রধান করে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মো আনোয়ারুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর মো. সামিউল ইসলাম।
এদিকে এ ঘটনায় কতোয়ালী থানায় প্রতীকের বাবা তওহিদুজ্জামান বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
















