সংলাপ নিয়ে ধোঁয়াশা, মন্ত্রী ও উপদেষ্টার দুই বক্তব্য

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংলাপের’ বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দুই দায়িত্বশীলের বক্তব্য আসছে দু রকম। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বলেছেন,‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও একটি সংলাপ করবেন।’

এইচ টি ইমামের বক্তব্যের কিছু পরেই ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত শনিবার আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় তিনি সংলাপ শব্দটিই ‘উচ্চারণ’ করেননি। ওই বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ক্লিপ তার কাছে আছে দাবি করে তিনি বলেন, সংলাপের বিষয়টি সাংবাদিকদের ‘মনগড়া খবর’।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এইচটি ইমাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তো সবার। তাকে সবাই অবশ্যই মেনে নেবে এবং সহযোগিতা করবে, করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আবার একটি সংলাপ করবেন। আগের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের তিনি আমন্ত্রণ জানাবেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আলোচনাসংক্রান্ত যে কথাটি বলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অবাস্তব এবং হাস্যকর।

অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন তোলেন, সংলাপ শব্দটি এল কোথা থেকে? তিনি বলেন, ‘সংলাপ নিয়ে আমরা তো কিছু বলিনি। কেউ যদি মনগড়া খবর পরিবেশন করেন, তাহলে তো কিছু করার নেই। আমি যে বক্তব্য রেখেছি, তার অডিও-ভিডিও ক্লিপ রয়েছে, সেখানে সংলাপের কোনো বিষয় নেই।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, বিএনপি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামি জোট সব মিলিয়ে মোট ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন। সেই দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী আবারও গণভবনে আমন্ত্রণ জানাতে চান শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। এখানে সংলাপ নিয়ে ধূম্রজাল কোথা থেকে এল? আমি তো সংলাপ শব্দটি উচ্চারণ করিনি। বলা হয়েছে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানাবেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একটু আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে। এই ছিল আমাদের কথা। এখানে ধূম্রজাল কেন হবে, সংলাপ কেন হবে?’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর তরফে সংলাপ আহ্বানের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড.কামাল স্বাগত জানালেও ঐক্যফ্রন্ট মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে পুণ:নির্বাচননিয়ে আলোচনার এজেন্ডা থাকলে তারা সাড়া দেবেন কি না ভেবে দেখবেন।

পূর্ববর্তি সংবাদআমার দেশের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর চলে গেলেন
পরবর্তি সংবাদব্রেক্সিটে হেরেছেন থেরেসা মে, আজ অনাস্থা ভোট, বড় সংকটে যুক্তরাজ্য