বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন,একদল লোক দেশকে অকার্যকর দেশ করতে চায়। কিছু নীতিহীন লোক গণতন্ত্রের কথা বলে। তাদের গণতন্ত্র কি ২১ আগস্টের মত গ্রেনেড হামলা? হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা? দুর্ভাগ্যজনকভাবে ড. কামাল তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যে লক্ষ্য আদর্শহীন ও নেতৃত্বহীন, তা পূরণ হয়না। তাদের লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
তোফায়েল আহমেদ বলেন,আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাতদফা দাবি জানিয়েছে। এ সব দাবি তুলে ধরেছে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ সব দাবি ‘সংবিধান পরিপন্থী’।
শুক্রবার রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) কোরিয়ান পণ্যের প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিদেশিরা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না। কূটনীতিকদের সঙ্গে যত বৈঠকই হোক না কেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাব।
তিনি বলেন, তারা (কূটনীতিকরা) আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে ভাবছেন। ট্রাম্পের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) আর কোনো কাজ নেই যে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বসে থাকবেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা সাত দফা দাবির বিষয়ে বলেন, একটি দাবি করতে তারা ভুলে গেছে ; সেটি হলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আমাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) ক্ষমতায় বসিয়ে দিন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার চলবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেসব দেশেও নির্বাচন হয় এবং কারচুপির অভিযোগ উঠে। কিন্তু নির্বাচন বাতিল হয় না। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে।
অতীতের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের হেরে যাওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন বিএনপি’র দুঃসময় চলছে। ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে উদ্ধার করতে এসেছেন। কিন্তু আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। কারণ তিনি এক সময় আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে নির্বাচন করে জিতেছিলেন। ’৮৬ সাল কিংবা ’৯১ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সরকারের নীতি-কাঠামোর ধারাবাহিকতা প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস বিদ্যুৎতের দাম যেন না বাড়ে। নীতিমালা স্থিতিশীল থাকা দরকার। এ সময় দেশ পরিচালনায় বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, আশা করি, সরকারের বর্তমান নেতৃত্ব কামিয়াব হবে। একথা বললে কেউ কেউ আমাকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন করে। তবে আমি এটাকে পরোয়া করি না।
‘শোকেস কোরিয়া’ নামে দুই দিনের এই প্রদর্শনীতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত ইলেক্ট্রনিক পন্য, অটোমোবাইল, গার্মেন্টসের সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, কাগজ, কেমিক্যাল, প্রসাধনী সামগ্রীর প্রদশনী হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এলজি বাংলাদেশ, মোবাইল ফোনসহ স্যামসাংয়ের ইলেকট্রনিক পণ্য, কিয়া মটরস। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১১টি কোম্পানি সরাসরি অংশ নিয়েছে।
কেবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে দেন ঢাকায় কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং ইল, কোরিয়ান ইপিজেড-এর সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদাত, এলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডং কন সন ও প্রদর্শনী আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।
















