পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি ইজতেমা : ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে ইসলামি সংগঠনগুলো!

আবরার আবদুল্লাহ ।।

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানিদের কথিত ইজতেমা বন্ধের দাবিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ক্রমশই বাড়ছে। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সারা দেশের মুসলিম জনসাধারণ উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। কাদিয়ানি ইজতেমাসহ তাদের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিকরা।

অন্যদিকে তীব্র প্রতিবাদের মুখেও কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন কাদিয়ানিদের কার্যক্রমের উপর বিধি-নিষেধ আরোপের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় মুসলিমরা। বরং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রীর অবস্থানের জন্য শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ করছেন তারা।

আরও পড়ুন : পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি ইজতেমা : মন্ত্রী বললেন, কাদিয়ানিরা ভালো!

গতকাল শুক্রবার পঞ্চগড়ের প্রতিটি থানা ও উপজেলায় কাদিয়ানি ইজতেমার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন জেলার সর্বস্তরের এবং সর্বদলীয় সাধারণ মুসলমান। একই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কথিত কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আগামীকাল কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে ঢাকা সাংবাদিক সম্মেলন করবে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফুফজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।

দেশের শীর্ষ আলেমরাও কাদিয়ানিদের ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। হেফাজতে ইসলামের আমির ও জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম, হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষ আলেমরা কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় হেফাজতে ইসলাম কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন :  পঞ্চগড়ে ইজতেমার নামে কী করতে চাচ্ছে কাদিয়ানিরা?

পঞ্চগড়ের কাদিয়ানি ইজতেমা কেন্দ্র করে দেশের খতমে নবুওয়ত কেন্দ্রিক সংগঠনগুলোও ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে এসে দাঁড়িয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকায় তারা ‘সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশ’ ব্যানারে একটি অভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে। পঞ্চগড়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিটাও সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়াত মুভমেন্ট, আমরা ঢাকাবাসী ও খতমে নবুওয়াত আন্দোলন।

বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের ধারণা, ‘কাদিয়ানি ইজতেমা’ কেন্দ্র করে দেশের ইসলামি সংগঠনগুলোর ভেতর বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠতে পারে। অতীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুতে যেমন গড়ে উঠেছিলো।

একইভাবে কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দেশের ইসলামি দলগুলো। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধ না হলে একই স্থানে, একই সময়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন : পঞ্চগড় ডিসি অফিসে বৈঠক : তীব্র প্রতিবাদের মুখেও হচ্ছে কাদিয়ানি ইজতেমা

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসহাক কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় ইজতেমা’ নামে দেশের মুসলমান প্রকাশ্যে কাদিয়ানি সম্মেলন সহ্য করবে না। সরকারকে অবিলম্বে এই মুসলমানদের ঈমান বিধ্বংসী কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের ঐ সম্মেলন বাতিল করতে হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কাদিয়ানি ইস্যুতে দেশের ধর্মীয় অঙ্গণ কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন। কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধ না হলে দেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। যা শুধু পঞ্চগড়ে নয়; বরং সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়বে।

পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি জামাত আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় ইজতেমা’ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং ইজতেমা সফল করতে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যাতে সাধারণ মুসলমানের বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। এতে এলাকার মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের তৈরি হয়েছে। তারা মুসলিম নামধারী অমুসলিম সম্প্রদায়ের ইজতেমাসহ সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদবিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
পরবর্তি সংবাদনিউজিল্যান্ডে গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল