ইসলাম টাইমস ডেস্ক : আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রথম আলো’য় বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেশি-বিদেশি একাধিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, দেশে মতপ্রকাশ ও সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মধ্যে রয়েছে। গণমাধ্যম সংক্রান্ত, ভয় ও নানামুখী চাপ দেশে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি চাপা ভয়ের কারণে সংবাদমাধ্যম আর সাংবাদিকদের মধ্যে ‘স্ব-আরোপিত’ নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে।
যদিও সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মান সংবাদমাধ্যম ডচে ভেলেকে এক সাক্ষাৎকারে (১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত) বলেছেন, তিনি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মুক্তচিন্তাকে শতভাগ সমর্থন করেন।
প্রতিবেদনে একাধিকবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে গত বছর পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
এছাড়াও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে আরও কিছু বিষয়। যেমন, সবল বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া; গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা; এবং সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি।
‘বাংলাদেশে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দিতে পারেনি সরকার’ বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়।
এরপর উদ্ধৃত করা হয়, বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিককে। তিনি বলেছেন, যেকোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করে থাকে। বর্তমান সরকারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
অবশ্য প্রতিবেদনে এটাও বলা হয় যে, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে গণমাধ্যমের যাত্রা কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকি পত্রিকা বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক শাসনামলে ছিল নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। আক্রমণ এসেছে কথিত বাম চরমপন্থীদের কাছ থেকে।
বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। এই আইনের ৯টি ধারা এমন রয়েছে যা স্বাধীন মতপ্রকাশের অন্তরায়।
যা চিহ্নিত করে আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে সম্পাদক পরিষদ।
অবশ্য নতুন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এখানে কিছু ধারার ব্যাপারে সাংবাদিকদের উদ্বেগ আছে। সেই উৎকণ্ঠা দূর করার জন্য কাজ করছি, যাতে কোনো ধারার অপপ্রয়োগ না হয়।’
একই সঙ্গে গত ১৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ হওয়া সম্প্রচার আইন এবং গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা চিন্তিত বলে মন্তব্য করা হয়।
প্রতিবেদক সাংবাদিকতা পেশার ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বিশ্বে সাংবাদিকতায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে পাঁচ বছর আগেই অন্তর্ভুক্ত করেছে সিপিজে। বাংলাদেশ এ তালিকায় উঠেছে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ এবং বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
দেশীয় বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে ১২২ জন সাংবাদিক শারীরিক নির্যাতন, হামলা, মামলা বা হুমকি-হয়রানির শিকার হয়েছেন। নিপীড়কের তালিকায় আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।
প্রতিবেদনের শেষাংশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি নজরদারি ও বারবার বিরোধী দলীয় নেতাদের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনার সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
















