সংগ্রামে সংগ্রামে কেটেছে মাওলানা ওমর ফারুক রহ.-এর জীবন

আবরার আবদুল্লাহ ।।

ছাত্র জীবন থেকেই মাওলানা ওমর ফারুকের জীবন ছিলো সংগ্রামী। মাদরাসার দুই বেলা খাবারই ছিলো তার ভরসা। অধিকাংশ দিন সকালের নাস্তাও করতে পারতেন না। তাই কখনও মাদরাসা ছেড়ে যাননি, যাওয়ার চিন্তাও করেননি; বরং ছাত্র-শিক্ষক কাউকে তা বুঝতেও দিতেন।

গতকাল ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত জামিয়া হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম, বড় কাটরার শিক্ষক মাওলানা ওমর ফারুক রহ. সম্পর্কে বলছিলেন তার সহপাঠী ও সহকর্মী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। তারা দুই জন এক সঙ্গে জামিয়া কোরআনিয়া, লালবাগে লেখাপড়া করেন এবং শিক্ষা সমাপনের পর ২০০৮ সালে বড় কাটরা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওমর ফারুক ভাইদের বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার নদীভাঙন এলাকায় অবস্থিত। একাধিকবার তাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় পারিবারিকভাবে তারা এক প্রকার নিঃস্ব ছিলেন। বড় ভাই খুব ছোট বয়সেই সংসার আলাদা করে নেন। বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সংগ্রাম করে চলতেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্য! তার আচরণে কষ্টের কোনো প্রকাশ ছিলো না। যে কোনো কাজে তিনি ছাত্র-শিক্ষক সবার আস্থার প্রতীক ছিলেন।

শিক্ষকদের খেদমতে সবার আগে থাকতেন তিনি। আমিনী সাহেব (মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.), মুফতি সাহেবসহ সবাই তাকে স্নেহ করতেন। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ রহ. (আদিব সাহেব) তাকে আদর করে ‘কালো খাদেম’ বলে ঢাকতেন। ছাত্রও মোটামুটি ভালো ছিলেন এবং প্রচুর মেহনতও করতেন। তার আচার-আচরণ, লেখাপড়ায় সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষকরা তাকে বড় কাটরা মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

শিক্ষক হওয়ার পরও তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। মাদরাসায় পড়াতেন আর দুপুরে রাতে একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানে সময় দিতেন। কয়েক বছর আগে একটা সন্তানও হয়েছে তার। নিজের ভিটেমাটি বলতে কিছুই ছিলো না। তিনি সন্তানদের জন্য এক টুকরো জমি কেনার স্বপ্ন দেখতেন এবং সেজন্য মুখ বুজে সব কষ্ট সহ্য করতেন।

তিনি বড় কাটরা মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। কানজুদ দাকায়েক, শরহে তাহজিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠদান করতেন।

পূর্ববর্তি সংবাদচকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
পরবর্তি সংবাদচকবাজারে অগ্নিকাণ্ড : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮