ইসলাম টাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ ২৮ বছর অনুষ্ঠিত হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে। আধিপত্য বিস্তার, ভোট কেন্দ্রের সামনে কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করে ভোটদানে বাধা, প্রার্থীদের উপর হামলা ও সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের মতো অভিযোগ উঠেছে।
অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তারা এসব অনিয়মের জন্য ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগিতার জন্য প্রশাসনকে দায়ি করছে।
তবে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন তাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
কুয়েত মৈত্রী হলে সিলমারা ব্যালট উদ্ধার
আজ সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্বেই সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল থেকে। সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার দেখতে চান। কিন্তু তারা সেই সময় ব্যালট দেখাতে অস্বীকার করেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ব্যালটবাক্স খুলতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। সেই সময় শিক্ষার্থীরা তিনটি ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়া ব্যালট পান।
এ সময় ভোট স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে কুয়েত মৈত্রী হলে ডাকসু এবং হল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
এই ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রোকেয়া হলের ব্যালট বাক্স উধাও
বেগম রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ কক্ষের পেছনের আরেকটি কক্ষে ব্যালট পেপার বোঝাই ট্রাংক পাওয়া গেছে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে ট্রাংকভর্তি ব্যালট পেপার পাওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
সকালে যখন ভোটগ্রহণ শুরু হয়, তখন আমরা ব্যালটবাক্স দেখতে চাইলেও দেখানো হয়নি। পরে আমরা বিক্ষোভ শুরু করলে ৯টার দিকে ব্যালটবাক্স দেখানো হয়। রোকেয়া হলে ব্যালটবাক্স থাকার কথা ৯টি। তবে আমাদের দেখানো হয়েছে ৬টি। পরবর্তীতে ৩টি বাক্স ছাত্রলীগের মেয়েদের রুম থেকে উদ্ধার করা হয়।
অনিয়মের অভিযোগ এনে ছাত্রীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করলে এবং প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করলে রোকেয়া হলেরও ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
ব্যালট দেখাতে অস্বীকার সুফিয়া কামাল হলের নির্বাচনী কর্মকর্তার
ডাকসু নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে ব্যালটবাক্স না দেখানোর প্রতিবাদে ভোট প্রদান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভোট দেয়া বন্ধ দেয় তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভোট শুরুর আগে সকালে ব্যালটবাক্স দেখানোর কথা থাকলেও তা দেখানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও ব্যালটবাক্স দেখাননি প্রভোস্ট।
৯টি ব্যালটবাক্সের মধ্যে তিনটি দেখাতে চাচ্ছে না প্রশাসন। সেগুলোতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে ভোট দেয়া আছে অভিযোগ তাদের।
মুহসীন হলে লাইনের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ভোটারদের লাইন ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগের অবস্থানের ভয়ে অনেকেই ভোট দিতে আসেনি। ছাত্রলীগ হলের প্রবেশমুখ থেকে ভোটার লাইন নিয়ন্ত্রণ করছে।
এদিকে ভোটের লাইন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি হলের রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানাতে এসে ছাত্রলীগের ধাওয়ার মুখে পড়েন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ভিপি প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী।
















