বাক স্বাধীনতার নামে মুহাম্মদ সা.-এর সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়

মুহাম্মদ সা. কে সমালোচনা, অপমান বা ব্যঙ্গ করা ‘বাক স্বাধীনতা’ অন্তর্ভূক্ত নয় বলে মত দিয়েছে ফ্রান্সের স্ট্রাসবাগে অবস্থিত ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত।

এ অপরাধে একজন অস্ট্রিয়ান নারীকে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ও আর্থিক জরিমানাও করেছে আদালত। যার বিরুদ্ধে মুহাম্মদ সা.-এর সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

একজন ইউরোপীয় নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে রায়টি দিয়েছেন একাধিক বিচারকের একটি প্যানেল।

রায়ের বিবরণে বলা হয়, অস্ট্রিয়ান নাগরিক এ নারী ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ফার রাইট ফ্রিডম পার্টি (এফপিও)-এর সৌজন্যে ইসলাম বিষয়ে একটি সেমিনার বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি হজরত আয়েশা রা. এর সঙ্গে রাসুল সা. এর বিয়ে বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় মুহাম্মদ সা. কে একজন যৌননিপীড়ক হিসেব মন্তব্য করেন।

অস্ট্রিয়ার একটি কোর্ট ২০১১ সালে তাকে ধর্ম অপমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৪৮০ ইউরো জরিমানা করে। দুইবার আপিল করার পরও এ রায় বহাল থাকে।

আদালত বলেছেন, তারা মনে করেন বিবাদীর আলোচনায় মুসলমানের ক্রোধান্বিত হওয়াই যৌক্তিক এবং প্রকৃত ভিত্তি ছাড়া একটি বিষয়ের সাধারণ সমীকরণের চেষ্টা ছিলো।

https://iadsb.tmgrup.com.tr/683184/645/344/14/0/774/405?u=https://idsb.tmgrup.com.tr/2018/10/25/insulting-prophet-muhammad-not-free-speech-echr-rules-1540458882976.jpg

ইউরোপীয় আদালত আরও বলেছেন, তারা লক্ষ্য করেছেন, স্থানীয় আদালত বিবাদীর আলোচনার অগ্র-পশ্চাৎ খুব ভালোভাবে যাচাই করেছেন। তার সঠিক মূল্যায়ন করেছেন। স্থানীয় আদালত তার বাক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারেও সতর্ক ছিলেন এবং একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় তার দায়িত্বের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। ফলে আদালত ধর্মীয় শান্তি-শৃংখলা রক্ষায় অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও সংরক্ষণ করতে পেরেছেন।

অবশ্য বিবাদী ইউরোপী আদালতে অভিযোগ করেন যে, তার মতপ্রকাশে যে স্বাধীনতা রয়েছে তার ভিত্তিতে তিনি ইউরোপীয় সংবিধানে ১০ ধারা (মতপ্রকাশে স্বাধীনতা) লঙ্ঘন করেননি। কিন্তু আদালত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আলোকে তা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপীয় আদালত বলেছে, সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধনের নামে শিশু বিয়ের বিতর্ক উস্কে দেয়াকে কোনো নিরপেক্ষ আচরণ বলা যায় না।  সুতরাং তার উপর আরোপিত জরিমানা অবশ্যই অযৌক্তিক নয়।

যৌননিপীড়ন ও শিশু বিয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে বলে মত দিয়েছেন অস্ট্রিয়ান আদালত।  আদালত বলেন, একই সময় ইউরোপের শাসক পরিবারে শিশু বিয়ের প্রথা বিদ্যমান ছিলো।

ইউরোপীয় আদালত আরও বলেছেন, এই আলোচনা সত্য অস্বীকার করার নামান্তর। যা সমাজে কুসংস্কার (মিথ্যা বিশ্বাস) ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্মীয় সম্প্রতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারতো।

তবে ইউরোপীয় আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে ধর্মীয় বিশ্বাস সমালোচনা ও অস্বীকার করার যোগ্য।  তবে যখন কোনো ধর্ম সম্পর্কে সমালোচনা করা হয় তবে তা সীমা ছড়িয়ে যেতে পারে এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা তৈরি করতে পারে। সুতরাং সমালোচনা হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও সংযত মাত্রায়।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ থেকে আবরার আবদুল্লাহ-এর অনুবাদ

পূর্ববর্তি সংবাদবিকল্পধারায় যোগ দিলেন শমসের মবিন ও নাজিম উদ্দিন
পরবর্তি সংবাদজর্ডানে বন্যায় নিহত ২০