পশ্চিমবঙ্গের ভোটে হিন্দু ধর্মের উত্তেজক ব্যবহার এবার কেন বাড়ছে?

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু ধর্ম  বা হিন্দুত্ববাদ কোনো কোনো রাজ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থেকেছে অনেকদিন থেকেই। কিন্তু বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল যে পশ্চিমবঙ্গে, সে রাজ্যে রাজনীতিতে তা ছিল বিরল।

ভারতের রাজনীতিতে ধর্মের প্রসঙ্গ মানে হিন্দুত্ববাদের জিগির। একসময় কোনো দলই পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম নিয়ে আসত না রাজনীতিতে। কিন্তু এবছরই সে রাজ্যের ভোটে কোনও না কোনও ভাবে ‘ধর্ম’ বেশ প্রকটভাবে উঠে আসছে প্রচারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও ভোটে ‘ধর্মের’ এই ব্যবহার নিয়ে বিবিসি বাংলায় একটি প্রতিবেদন করেছেন অমিতাভ ভট্টশালী।

অমিতাভ লিখেছেন, ‘কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মের উত্থান হল, সেই খোঁজ করতে গিয়ে ১৩ ই এপ্রিল রামনবমীর দিন সকালে দেখছিলাম কলকাতার নানা জায়গায় বিজেপি প্রার্থীরা মিছিলে হাঁটছেন।

দলের হয়ে ভোট প্রচারে দুবেলাই তারা বেরচ্ছেন। কিন্তু ওইদিনের মিছিলগুলোয় না ছিল কোনও দলীয় পতাকা, না উঠছিল বিজেপির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্লোগান। শুধুই ছিল জয় শ্রীরাম ধ্বনি ‘

অথচ এই রামনবমীকে কেন্দ্র করেই গতবছর বেশ কয়েকটি জায়গায় দাঙ্গা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল।

শুধু যে রামনবমী পালন, তা নয়। পশ্চিমবঙ্গে ইদানীং হনুমান জয়ন্তী থেকে শুরু করে ধর্মের নানা অনুষ্ঠানেই দেখা যায় রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের।

বছরের অন্যান্য সময়ে সেই সব ধর্মের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক উপস্থিতি চোখে পড়ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু এবার নির্বাচনী প্রচারে যেভাবে ধর্ম আর ধর্মীয় রীতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে, তা আগে দেখা যায় নি।

“এটা একেবারে নতুন সংযোজন পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে। প্রত্যক্ষ আর আগ্রাসী ধর্মীয় রাজনীতি আগে কখনও দেখি নি। এটার মূল কিন্তু ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতিতে লুকিয়ে আছে। মুসলমানরা একটা ভোট ব্যাঙ্ক, আবার হিন্দুরা আরেকটা ভোট ব্যাঙ্ক,” বলছিলেন কলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক শিখা মুখার্জি।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রচারক মমতা ব্যানার্জী নিজেই। তিনি প্রতিটি নির্বাচনী জনসভাতেই বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কড়া সমালোচনা করছেন তার নিজস্ব বক্তৃতার স্টাইলে।

কিন্তু তার সেই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ধর্মের বিষয়টাকে উস্কিয়ে দিতে বিজেপি প্রচার চালাচ্ছে যে এটা তৃণমূল কংগ্রেসের, তাদের ভাষায়, ‘সংখ্যালঘু তোষণ’।

অধ্যাপক মীরাতুন নাহার অবশ্য বলছিলেন, “ব্রিটিশ শাসকরা ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করে যে চারা রোপণ করেছিল, তাকেই জল, সার দিয়ে রাজনীতিকরা বড় করে এখন একটা মহীরুহের রূপ দিয়েছেন। আজকের যে পরিস্থিতি, সেটা একদিনে হয় নি। ওই দেশভাগ বা তার ঠিক আগে থেকে বিদেশী শাসকরা তাদের স্বার্থে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে এই বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু জাতি হিসাবে আমরা এতটাই হতভাগ্য যে এত বছরেও তার থেকে বেরিয়ে আসতে পারলাম না। ”

বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা তৃণমূল কংগ্রেস বা বামপন্থীরা আর কংগ্রেস – সকলেই করছে। কিন্তু মূল বিরোধিতা করছেন যিনি, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী।

ভারতের অন্যান্য রাজ্যে, বিশেষত উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে হিন্দ ধর্মকে সামনে নিয়ে ধর্মীয় বিভাজন, জাতপাতের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ‘ধর্মের রাজনীতি’ নতুন। যা প্রকটভাবে আমদানি করছে বিজেপি।

পূর্ববর্তি সংবাদআওয়ামীলীগকে আবার তৃণমূল থেকে ঢেলে সাজানো হবে : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আটক