নতুন পাকিস্তান কি ঝুঁকছে ইসরাইলের দিকে?

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে না কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা হচ্ছে, না ভবিষ্যতে করার কোনো ইচ্ছে আছে।

গত রোববার ইস্তাম্বুলে রওনা হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম বিরোধী দলীয় নেতা ইউআইএফ-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানে ইসরাইলি বিমান অবতীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে ইসরাইলি বিমান নেমেছিলো। ওমান সরকারই তার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত দুই দিন যাবত পাকিস্তানের মাটিতে ইসরাইলি বিমান অবতরণ করেছে বলে জোর আলোচনা চলছে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়। তবে পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করছে।

তারা বলছে, পাকিস্তানের মাটিতে ইসরাইলি বিমান অবতরণের ঘটনাটি গালগল্প ছাড়া কিছু না। কারণ, তার কোনো প্রমাণ নেই এবং বাস্তবেও পাকিস্তানের কোনো বিমানবন্দরে ইসরাইলি কোনো বিমান অবতরণ করেনি।

পাকিস্তানের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। প্রশ্ন হলো, তাহলে কি এ সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত করছে?

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক, জর্ডান, ওমান ও মিসরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের। তবে পাকিস্তানসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তার সাথে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
ইদানীং আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলের যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের নানান ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, কিছুদিন পূর্বে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ইসরাইলের নিজ ভূমির উপর অধিকার রয়েছে।

সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে এখনও কোনো (প্রাতিষ্ঠানিক) কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বলা যায়, উভয় দেশ ইতিহাসের সবচেয়ে মধুর সময় পার করছে।

২০০৩ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে তিনি জাতীয় সংলাপের আয়োজন করেন। কিন্তু পাকিস্তানের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।

পাকিস্তানের মাটিতে ইসরাইলি বিমান অবতরণের গুঞ্জনের মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট তুরস্ক সফরে রয়েছেন।

আর তুরস্কেই পাকিস্তান ও ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালের সে বৈঠকের কথা প্রথম স্বীকার করে পাকিস্তান।

এ বৈঠকের পর পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ কাসুরি বলেছিলেন, ইসরাইল গাজা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পাকিস্তান ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে।

ইস্তাম্বুলের সেই বৈঠককে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সলভেনিয়াও ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন।

তারা উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আজকের বৈঠক পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ঘটনা প্রকাশের পর পাকিস্তানের ইসলামি দলগুলো প্রতিবাদ শুরু করলে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিলো, যখন ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করবে এবং স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে তখন পাকিস্তান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিবে।

সেই বৈঠকের পর একযুগ অতিবাহিত হয়েছে। ইসরাইল এখন আগ্রাসী, আরও নির্দয়। ইসরাইল ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধানের পরিবর্তে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব গ্রহণের বিপরীতে ভূমি ছেড়ে দেয়ার আহবান জানাচ্ছে। বরং তাদের বাধ্য করার সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তান রাষ্ট্রও না কি ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে ইসরাইলের দিকে।
আল্লাহই ভালো জানেন পর্দার আড়ালে কোন নির্দয় যোগসাজস লুকিয়ে আছে। মুসলিম জনগণকে যা শুধু হতাশার দরিয়ায় ঠেলে দিবে।

অবলম্বন: বিবিসি উর্দু

পূর্ববর্তি সংবাদচট্টগ্রামে নিজ বাসায় মা-মেয়ে খুন
পরবর্তি সংবাদসাজার পর সংলাপ, সুফল নিয়ে সংশয়ে বিএনপি