ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৭ জন। সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি জাতীয় ও স্থানীয় ২৬টি দৈনিকের (১৫টি জাতীয় ও ১১টি স্থানীয়) প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, সারা দেশে ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন, ২০১৯) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২৫৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১০টি দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানি হয়। আর ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে একই সময়ে ২৮৫টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন শ্রমিক নিহত হন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই নিহতের সংখ্যা মোট ১৩৪ জন। এর মধ্যে পরিবহন খাতের শ্রমিকের সংখ্যা ১২৯ জন। তারা বাস, ট্রাক, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর ও হেলপার হিসেবে কাজ করার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আর বাকি একজন নির্মাণ শ্রমিক ও চারজন দিনমজুর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
এ দিকে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যার দিক থেকে পরিবহন খাতের পর নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে। কর্মক্ষত্রে কাজ করার সময় নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ৫১ জন। এক্ষেত্রে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে (যেমন— ওয়ার্কশপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) ৩৭ জন এবং কল-কারখানা ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ৩৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে মাছ ধরা, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাত ও বিদ্যুতায়িত হয়ে সাতজন কৃষিশ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, শক্ত বা ভারী কোনো বস্তুর আঘাত বা তার নিচে চাপা পড়ে ৩১ জন; বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ২১; ছাদ, মাচা বা ওপর থেকে পড়ে ১৯; পাহাড় বা মাটি ধসে ১৬; বিভিন্ন বিস্ফোরণে ৯; রাসায়নিক দ্রব্য বা সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে ৭; ব্রিজ, ভবন, ছাদ, বা দেয়াল ধসে ৫ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া আগুনে বা তপ্ত লোহায় পুড়ে ও পানিতে ডুবে আটজন শ্রমিক নিহত হন।
সেফটি অ্যান্ড রাইটস এজন্য কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কিছু সুপারিশও করেছে। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কোড এনফোর্সমেন্ট অথরিটি গঠন করে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ২০০৬’ যথাযথ বাস্তবায়ন; প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন; আইন বাস্তবায়নে রাজউক ও কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা; কর্মরত শ্রমিকদের বিনা মূল্যে যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান অন্যতম।
















