ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আসামের পর এবার কি পশ্চিমবঙ্গেও দেখা দিচ্ছে এনআরসি অর্থাৎ জাতীয় নাগরিকপঞ্জির নামে জাতিগত বিদ্বেষের ঘনঘটা । সঠিক উত্তর যদিও সময় দেবে। তবুও আশংকা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর করবে নাই বা কেন! খোদ বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবদুর রাউফের পরিবারকে ধরানো হয়েছে নোটিশ, বলা হয়েছে ‘আপনি আর নাগরিক নন’।
চিঠি পেয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ রাউফ। তিনি ভারতীয় তবে তাঁর স্ত্রী ও ছেলে নাগরিক নন এমন আজগুবি চিঠির পেছনে কী সরকারের গোপন অভিসন্ধি আছে? প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি চিঠিতে তাঁর স্ত্রী মুসতাবসারা রাউফ ও ছেলে ড. আসাদ রাউফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক অসমে যেমন বাবার নাম থাকলেও মা নেই বা ছেলের নাম থাকলেই বাবাকে বলা হয়েছে বিদেশি। অন্তত তেমনই গন্ধ পাচ্ছেন আবদুর রাউফ। পাশাপাশি রাজ্যের মুসলমান ও বুদ্ধিজীবী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্ট্ররস রুলস্ ১৯৬০ এর ২১ এ ধারা মতে কেন আপনার নাম বাদ পড়া উচিৎ নয়? সেই মোতাবেক আবদুর রাউফের স্ত্রী আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং এ যান ১৪ জুলাই। তার নাম কেন বাদ পড়ল? সেই উত্তর অবশ্য দেয়নি সরকারি আধিকারিকরা। উলটে কোথায় জন্ম, কোথায় পড়াশোনা? ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন করা হয়। তিনি বিগত ৩৫ বছর ধরে মেহের আলি রোডের বাড়িতে বসবাস করছেন তার পরেও কেন নাম বাদ পড়ল? ফিল্ড অফিসার কিসের ভিত্তিতে এমন রিপোর্ট দিল! প্রশ্ন তুলেছেন রাউফের স্ত্রী।
সেখানে ধর্মীয় এবং ভাষাগত সংখ্যালঘুদের বিদেশি ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে বিদেশি তকমা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে কি এরপর পশ্চিমবঙ্গেও এমনটা করা হবে?
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুসতারসারা মধ্য কলকাতার রিপন স্ট্রিটে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সাহনাওয়াজ ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। দাদু আবদুল গাফ্ফার ছিলেন তৎকালীন বাংলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। কলকাতা লরেটো কলেজ থেকে স্নাতক করা মুসতারসারা ২৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন, মনসুর হাবিবুল্লাহ স্মৃতি হাইস্কুলে।
অন্যদিকে ছেলে আসাদ রাউফ সম্প্রতি ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন। বর্তমানে সে নেদারল্যান্ডের গ্রেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ছেলে কতো বছর দেশে নেই সেই প্রশ্নও তুলেছেন অফিসাররা। তিনি জবাব দেন, ছেলে পিএইচডি করার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। সূত্র: দ্যা বেঙ্গল মিরর
















