আল্লামা তাকি উসমানির জীবনের স্মরণীয় সাত মুহূর্ত

মুফতি মুহাম্মদ বিন আদম কাউসারী ।।

শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি কিছুদিন আগে সাইপ্রাস সফর করে গেলেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হযরত! আপনার জীবনের আনন্দঘন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো সম্পর্কে জানতে পারলে উপকৃত হতাম। হযরত তখন তাঁর জীবনের স্মরণীয় ৭ টি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

এক. ১৯৬৩ সালে হজ্বের সফর। যদিও ১৯৫১ সালে ৮ বছর বয়সে মক্কা-মদিনার সফর হয়েছিলো তাঁর আব্বাজানের সঙ্গে। কিন্তু বোধশক্তি হওয়ার পর এটাই ছিলো তাঁর প্রথম সফর। জাহাজের সফর ছিলো এটি। এক সপ্তাহ যেতে আর এক সপ্তাহ ফিরে আসতে লেগে যায়। সফরের ইতিবৃত্ত লিখে রেখেছিলেন কয়েকটি কাগজে। তবে আসার পথে জাহাজেই সেগুলো  হারিয়ে যায়! সফরটি ছিল তাঁর বড়ভাই ওলি রাজির সঙ্গে।

দুই. ১৯৭৫ সালে তাঁর কপালে স্বীয় পিতা মুফতি শফি রাহ. এর চুমু খাওয়া। একবার উমরার সফরে তিনি ছিলেন স্বীয় পিতা আল্লামা মুফতি শফি রাহ. এবং আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরি (বানুরি) রাহ. এর সাহচর্যে। মুফতি শফি রাহ. অসুস্থ হয়ে পড়েন হঠাৎ। ফলে তাঁকে পাকিস্তান ফিরে আসতে হয়। অন্যদিকে তাকি উসমানি এবং বিন্নুরি রাহ.কে মক্কায় আরও কয়েকদিন অবস্থান করতে হচ্ছিলো। কেননা এর পর সাউথ আফ্রিকায় যাওয়ার প্রোগ্রাম ছিলো তাঁদের। তো ওইসময় মুফতি শফি রাহ.কে বিদায় দিতে গেলে তিনি নিজ আদরের দুলাল তাকি উসমানির কপালে চুমু খেলেন।

তিন. ১৯৭৪ সালে ক্বাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দিন। যেহেতু ওই মামলায় তিনি আল্লামা বিন্নুরি রাহ. এর সঙ্গে থেকে আইনি লড়াই করে যাচ্ছিলেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনেক ফাইলপত্র প্রস্তুত করেছিলেন- এজন্য কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা তাঁর জন্য এক মহা আনন্দের ব্যাপার ছিলো।

চার. ১৯৭৯ সালে শরয়ি হুদুদ বাস্তবায়নের ঘোষণা। এসময় তিনি জাস্টিস হিসেবে আদালতে শরয়ি হুদুদ বাস্তবায়নের আইন পাশ করতে আইনি সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন। শহিদ জেনারেল জিয়াউর রহমানের ওই ঘোষণায় তিনি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন।

পাঁচ. ১৯৯৪ সালে তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম এর কাজ সম্পন্ন হওয়া। সহিহ মুসলিমের একটি সাড়াজাগানো আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো আল্লামা শাব্বির আহমদ উসমানি রাহ. এর ফাতহুল মুলহিম। কিন্তু গ্রন্থটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে বড়দের নির্দেশে আল্লামা তাকি উসমানি হাফিযাহুল্লাহ এই কাজটি পূর্ণ করেন। বিশালাকারের ছয় খণ্ডে তিনি তাকমিলায় ফাতহুল মুলহিম সংকলন করেন। ওইকাজে হযরতের প্রায় ১৮ বছর লেগেছিল। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. যেভাবে ফাতহুল বারি এর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়ালিমা বা বন্ধুদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছিলেন, তেমনি দারুল উলূম করাচি ওই সময় একটি বিশেষ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করেছিলো।

ছয়. ২০০৮ সালে আল কোরআনের উর্দু অনুবাদ এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এর কাজ সম্পন্ন হওয়া। আসান তরজমায়ে কোরআন নামে তা প্রকাশিত হয়েছে। এ কাজটির সিংহভাগই সম্পন্ন হয় হযরতের বিশ্বময় সফরে উড়োজাহাজে বসে।

সাত. ২০০৫ সালে আল কোরআনের ইংলিশ অনুবাদ এর কাজ সম্পন্ন হওয়া। এটিও তিনি সফরের অবস্থায় সম্পন্ন করেছিলেন।

অনুবাদ: মাওলানা মাহফুয আহমদ, লন্ডন

পূর্ববর্তি সংবাদগাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকা ক্ষতি
পরবর্তি সংবাদনেত্রকোণায় ছেলেধরা সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, শিশুর কাটা মাথা উদ্ধার