পড়তি দর: সীমিত হয়ে আসছে মাদরাসার চামড়া সংগ্রহের আয়োজন

ওলিউর রহমান ।।

গত কয়েক বছর আগ পর্যন্ত কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় মাদরাসাগুলোর বিশেষ আয়োজন ছিল। অনেক ছাত্র নিয়ে ব্যাপক পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করা হতো। মাদরাসার গোরাবা ফাণ্ডের একটা নির্দিষ্ট অংশ উঠে আসত চামড়া বাবদ অর্জিত অর্থ থেকে। পরিবারের সাথে ঈদ করার আনন্দ ‘কুরবানী’ করে মাদরাসার সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় ছাত্র-উস্তায সম্মিলিত উদ্যোগে কুরবানির দিনে চামড়া সংগ্রহের আয়োজনে ব্যস্ত থাকতেন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঁচা চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় মাদরাসা কর্তৃক চামড়া সংগ্রহের ব্যাপক আয়োজন দিনদিন কমে আসছে। ঈদের দিনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চামড়া বাবদ তেমন কোনো লাভ না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ আগের মতো চামড়া সংগ্রহে উৎসাহ হারাচ্ছেন। তাই অনেক মাদরাসাই সীমিত করে এনেছে চামড়া কালেকশনের আয়োজন।

এ বিষয়ে কথা বললে রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদুদ্দীন জানান, অনেক মাদরাসা এখন চামড়া কালেকশনের পরিধি ছোট করে আনছে। সব মাদরাসারই এটা করা উচিত। চামড়া বাবদ যেহেতু এখন খুব একটা লাভ হয় না তাই শুধু শুধু ছাত্রদের মাদরাসায় রেখে দেওয়া ঠিক হবে না।

ময়মনসিংহের মাখযানুল উলুম মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ জানান, মাখযানে অল্পসংখ্যক ছাত্র রেখে বাকীদের নির্দিষ্ট চাঁদা আদায়ের ভিত্তিতে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে।

মাওলানা মুহাম্মদ বলেন, এখন চামড়ার যে দর, ছাত্র রেখে ব্যাপক পরিসরে কালেকশন করতে গেলে সার্বিক বিবেচনায় মাদরাসার তেমন আয় হয় না।

এমনই সংবাদ পাওয়া গেছে, ঢালকানগর, জামালুল কুরআনসহ মিরপুরের কয়েকটি মাদরাসায় যোগাযোগ করে। এসব মাদরাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন ছাত্রদেরকে এখতিয়ার (সুযোগ) দেয়া হচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিয়ে বাড়ি চলে যাওয়া বা মাদরাসায় থেকে যাওয়ার।

এদিকে বিশেষজ্ঞ অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববাজারে চামড়ার তৈরি দ্রব্যাদির দাম সবসময় চড়া থাকলেও কুরবানির সময় বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোতে কাঁচা চামড়ার দাম পড়ে যাওয়াটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ষড়যন্ত্রকে অত্যন্ত সচেতনতা ও সফলতার সাথে মোকাবেলা করা উচিত।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হিসেব-নিকেশের পর চামড়া সংগ্রহের আয়োজন সীমিত করে নিলেও দ্বীনদার মানুষের কর্তব্য হবে অন্যান্য সময়ের মতো কুরবানি উপলক্ষে মাদরাসায় নির্দিষ্ট অর্থ দান করা। চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক থাকার সময়ে বিক্রিত চামড়ার যে অর্থ গরিব-অসহায় বা এতিমখানা কিংবা মাদরাসার গোরাবা ফাণ্ডে দান করা হত সমাজের সামর্থ্যবান লোকদের উচিত চামড়া দর কম থাকলেও সে পরিমাণ টাকা দান করা। কেননা কুরবানির চামড়ার মূল্য কমে যাওয়ার প্রতক্ষ প্রভাব এই গরিব মানুষদের উপর পড়ে। শুধু মাদরাসার গরিব ছাত্র নয়, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের গরিব মানুষেরাও বঞ্চিত হয় এতে।

কুরবানির পশু কেনা ছাড়াও হাটে হাসিল দেওয়া, পশুকে বাড়িতে এনে দু’তিন দিন প্রতিপালন ও কুরবানির দিন কসাইয়ের খরচকে যেমন আবশ্যিক মনে করা হয় তেমন আবশ্যিকতার সাথেই এ দানটুকুর টাকা তারা বরাদ্দ করতে পারেন। এটা কুরবানির আমলের কোনো অংশ হিসেবে নয়, বরং বার্ষিক দানের ধারা বজায় রেখে গরিব মানুষকে উপকৃত করে সওয়াব অর্জনের লক্ষ্যে এটা করা উচিত।

পূর্ববর্তি সংবাদএডিস মশা বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি চেনে না: গয়েশ্বর
পরবর্তি সংবাদমিনহার উপর এসিড নিক্ষেপকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুন: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ