‘দখলদার’ সরদার প্যাটেলের জন্মদিবসে কার্যকর হচ্ছে খণ্ডিত কাশ্মীর

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ৪৭ পূর্ব ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন সরদার প্যাটেল। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এই নেতা হায়দরাবাদ দখলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এই নেতাকে ‘লৌহমানব’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও জাতীয় কংগ্রেসের এককালীন সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর সতীর্থ এই নেতাকে সাম্প্রদায়িকতাবাদী রাজনীতিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রীডম’-এর অপ্রকাশিত ত্রিশ পৃষ্ঠায় মাওলানা আজাদ সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি নিয়ে লিখেছেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি কংগ্রেসের এই নেতাকেই লুফে নিয়েছে।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, দ্বিখণ্ডিত জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে কার্যকর হবে ৩১ অক্টোবর থেকে। সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকীর দিন থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার বিলটি এর মধ্যে দেশটির সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিলটিতে সই করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

এর আগে প্যাটেলের সম্মাননায় গুজরাটে তার জন্মস্থানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য তৈরি করা হয় গত বছর। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঐক্যের মূর্তি’। ভাস্কর্যটি ৫৯৭ ফুট উঁচু, উচ্চতায় যা প্রায় ৬০ তলা ভবনের সমান। গুজরাট রাজ্যের সাদু বেট আইল্যান্ডে নর্মদা নদীর পাশে ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে। স্বধীনতার ঊষাকালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে হিন্দুত্ববাদের শক্ত অবস্থানের উদাহরণ দিতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা প্যাটেলের নাম বারবার উচ্চারণ করে থাকেন। স্বাধীন ভারতে দখলদার রাজনীতির তিনি এক ‘সূচনা মানব’।

গত সোমবার ভারতের বিজেপি সরকার দেশটির সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে। এতে জম্মু ও কাশ্মীর আলাদা রাজ্য না থেকে দ্বিখণ্ডিত হয়। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ এখন থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, তার সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে কাশ্মীরে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। সেখানে শিল্পায়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো হবে না। এখানে বিধানসভা থাকবে, নির্বাচন হবে, মুখ্যমন্ত্রী থাকবে, থাকবে মন্ত্রিসভাও। ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অনুচ্ছেদ স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। এই বিচ্ছিন্নতা ও সন্ত্রাসবাদের কারণে গত তিন দশকে কাশ্মীর অঞ্চলে ৪২ হাজার নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

কাশ্মীর–সংক্রান্ত বিলটি প্রসঙ্গে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিলটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানোর আগে কিছু বিরোধী দলের ওয়াক আউটের মধ্যেও দিয়ে বিজেপি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এবং সরকারের প্রতি সমর্থন দেওয়া দলগুলোর সহায়তায় গত সপ্তাহে লোকসভায় পাস করে। এটি ইতিমধ্যে রাজ্যসভায়ও পাস হয়েছে।

সংসদে কাশ্মীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে থাকা দলগুলোর নেতৃত্ব দেয় কংগ্রেস। বিরোধিতা করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, লালু যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং বাম দল। তাদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পূর্ববর্তি সংবাদকোরবানিকে পশু হত্যাযজ্ঞের মহোৎসব আখ্যাদানকীরারা ইসলামের চরম দুশমন: আল্লামা বাবুনগরী
পরবর্তি সংবাদআজ ফজরের আগেই কাবায় পরানো হলো নতুন গিলাফ