কোরবানির চামড়ায় এবার আর্থিক ক্ষতি ২৪২ কোটি টাকা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কাঁচা চামড়ার দামে বড় ধসের কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যাবে, যার আর্থিক মূল্য কমপক্ষে ২৪২ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাবেক সভাপতি আবু তাহের মনে করেন, চামড়ার দর বেঁধে না দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দামে কেনার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি ততটা খারাপ হতো না।

সরকারের নজরদারির অভাব, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিরাট ফারাক, চামড়া আমদানিসহ কয়েকটি কারণে চামড়ার দামে ধস নেমেছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি  বলেন, সীমিত পরিসরে ওয়েট ব্লু আকারে চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিতে পারে সরকার। তবে এর আগে চামড়া পণ্য ও জুতা উৎপাদনকারী কারখানার চাহিদার বিপরীতে কাঁচা চামড়ার জোগান হিসাব করতে হবে। সেটি হলে চামড়া নিয়ে ভবিষ্যতে বিপর্যয় কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদে সারা দেশ থেকে ৫৫-৬০ লাখ গরু এবং ৩৫-৪০ লাখ মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চামড়াব্যবসায়ীদের। তবে ন্যূনতম দাম না পেয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ শতাংশ গরুর চামড়া সড়কে ফেলে ও মাটিতে পুঁতে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার সময়মতো লবণ না দেওয়া, বৃষ্টি ও গরমের কারণেও কমপক্ষে ২০ শতাংশ গরুর চামড়া নষ্ট হবে। অন্যদিকে দামের ধসের কারণে নষ্ট হয়েছে ছাগল ও ভেড়ার ৮০ শতাংশ চামড়া। তার মানে প্রায় ১ কোটি চামড়ার মধ্যে ৫৩ লাখ চামড়াই নষ্ট হবে।

সরকার–নির্ধারিত হার অনুযায়ী, এবার ৩০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। আর ১৫ থেকে ২৫ বর্গফুটের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। একেকটি গরুর চামড়ার দামে গড়ে ১ হাজার টাকা ধরলে ২১০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। আর একেকটি ছাগলের চামড়া ১০০ টাকা ধরলে ক্ষতি ৩২ কোটি টাকা। ট্যানারির মালিক ও আড়তদারেরা বলছেন, প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হবে। চামড়াগুলো ঠিকঠাক থাকলে বিভিন্ন পর্যায়ে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো।

কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনায় সরকারের কার্যকর নজরদারি ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। অভিযোগ আছে, এই সুযোগে এবার আড়তদার ও ট্যানারির মালিকদের কারসাজিতে চামড়ার দামে ধস নেমেছে। ঈদের দিন বিকেলে ঢাকায় ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি হয়। আবার পরদিন পোস্তার চামড়ার আড়তে বিক্রি হয় ১৫০-২০০ টাকায়। তাতে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম পড়ে ৩ থেকে ২০ টাকার মতো। অথচ সরকারি দর ছিল প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫-৫০ টাকা। তবে সারা দেশের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। দাম না পেয়ে লোকসান গুনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

পূর্ববর্তি সংবাদবাংলাদেশে সীমান্ত হত্যা বেড়েই চলেছে: আসকের প্রতিবেদন
পরবর্তি সংবাদবন্দুক দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না : মোদিকে মমতা