ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন : খৃস্টান মিশনারি ও কাদিয়ানীদের মত বাংলাদেশে শিয়াদের কার্যক্রম তেমন একটা নজরে না পড়লেও গোপনে গোপনে যে শিয়াদের দাওয়াতি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সরেজমিনে বিভিন্ন ঘটনা শুনিয়ে সে আশঙ্কাই ব্যক্ত করলেন ঢাকার এক প্রসিদ্ধ মাদরাসার শিক্ষক গবেষক আলেম মাওলানা আবদুর রহমান।
শিয়া বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণারত এই তরুণ আলেমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল শোকমাতম ও তাযিয়া সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী।

জবাবে এই আলেম বলেন,“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরীর ১০ মুহাররমে কারবালায় হযরত হুসাইন রাযি.-এর শাহাদাতের ঘটনা ঘটে। নিঃসন্দেহে তাঁর শাহাদাত তাঁর জন্যে অনেক মর্যাদার বিষয়। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর জন্য তা হয়ে গেছে অনেক বড় পরীক্ষার বিষয়।”
“ আমাদের মনে রাখতে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের আগেই আমাদের শরীয়ত পূর্ণ হয়ে গেছে। কিয়ামত পর্যন্ত এই শরীয়ত পূর্ণাঙ্গরূপেই সংরক্ষিত থাকবে। তাতে কোনো ধরনের সংযোজন-বিয়োজনের সুযোগ নেই।
“ অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের পরে সংঘটিত কোনো মুসিবত বা আনন্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো দিন বা কোনো মাসের নতুন কোনো ফযীলত বা নতুন কোনো বিধান আবিষ্কার করা যাবে না। এমন করা হলে তা হবে পরিষ্কার বিদআত ও গোমরাহী, যার ঠিকানা জাহান্নাম।”
মাওলানা আবদুর রহমান আরও বলেন, “দুঃখ ও আনন্দ উভয়টির বিধান শরীয়তে আছে। আমাদের উপর ওয়াজিব হল সেই হুকুম অনুযায়ীই আমল করা। উদাহরণস্বরূপ- মুসিবতের সময় একজন বান্দার কী করণীয়, কী বর্জনীয় তার বর্ণনা আছে কুরআন মাজীদ ও সুন্নাতে নববীতে।”
“কারো ইনতিকালে শরীয়তের হুকুম হল সবর করা। অধৈর্য হয়ে অভিযোগপূর্ণ কোনো কথা বলা, বিলাপ করা, হাত পা আছড়ানো, বুক চাপড়ানো, চেহারা খামচানো, শোকের পোশাক পরা এসবই হারাম। শরীয়তে খুব কঠোরভাবে তা থেকে বারণ করা হয়েছে।”

অবাক হওয়ার মত বিষয় হল, বর্তমানে আশুরাকে কেন্দ্র করে শিয়ারা তাদের মাতম জলসায় যেসব কাজ করে, এভাবে আশুরা পালন করার কথা খোদ শিয়াদের কিতাবেও নেই।
এ বিষয়ে মাওলানা আবদুর রহমান বলেন,“শিয়াদের কিতাবেও মুসিবতে এমন চিৎকার করা, আহাজারি করা, চেহারা বা বুক চাপড়ানো ইত্যাদি কাজকে নিষেধ করা হয়েছে। মাতম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোতেও বেশকিছু হাদীস রয়েছে। সেখানে তাদের ইমামদের বক্তব্যও রয়েছে।”
“এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হল, খোদ পণ্ডিত শিয়াদের নিকটও একথা স্বীকৃত যে, মাতমের এই পদ্ধতি শিয়া ধর্মেও বিদআত।”
“হযরত হুসাইন রাযি.-এর শাহাদাতের পর থেকে তিন শ বছর পর্যন্ত ১০ মুহাররমে কান্নাকাটি, আহাজারি, চিৎকার ও বুক চাপড়ানোর প্রথার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সর্বপ্রথম ৩৫২ হিজরীতে মুঈযযুদ দাওলা দাইলামী (একজন শিয়া) দশ মুহাররমে শুধু বাগদাদে হযরত হুসাইন রাযি.-এর জন্য মাতম করার হুকুম জারি করে। এ কথা প্রসিদ্ধ শিয়া ঐতিহাসিক আমীর আলী তার ‘স্পিরিট অফ ইসলাম’ বইয়েও লিখেছেন।”
মাতমের পাশাপাশি আশুরায় নতুন সংযোজিত হয়েছে একেবারে শিরক মত এক ভয়াবহ বিদআত, যার নাম রেখেছে ‘তাযিয়া’। জানা যায়, এই তাযিয়া বিদআতের আবিষ্কার হয়েছে হযরত হুসাইন রাযি.-এর শাহাদাতের প্রায় এক হাজার বছর পর।
তাযিয়া বিদআত সম্পর্কে জানতে চাইলে মাওলানা আবদুর রহমান বলেন,তাযিয়া প্রথা পরিষ্কার শিরকী প্রথা। তাওহীদের কালিমায় বিশ্বাসী কোনো মুসলমান, যার তাওহীদের হাকীকত জানা আছে, আবার তাযিয়া সম্পর্কেও ধারণা আছে, সে এই তাযিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না।
শিয়াদেরকে এহেন কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, বিদআতের নিন্দা বিষয়ে খোদ শিয়াদের কিতাবে যেই কঠিন বক্তব্য রয়েছে সেগুলোকে স্মরণ করেও যদি শিয়ারা এই ভয়ংকর বিদআত থেকে ফিরে আসে তাহলে সবার জন্যই ভালো।
















